ঠাকুরগাঁওয়ে ১৩৯ নারী উপকারভোগীর ইউপিজি গ্র্যাজুয়েশন


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১১, ২০২৬, ৩:৫৬ PM / ০
ঠাকুরগাঁওয়ে ১৩৯ নারী উপকারভোগীর ইউপিজি গ্র্যাজুয়েশন

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৮ নম্বর রহিমানপুর ইউনিয়নের পটুয়া ফেডারেশনে অতি-দরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের টেকসইভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত আল্ট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন (ইউপিজি) কর্মসূচির আওতায় গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ই আগস্ট) ১৩৯ জন নারী উপকারভোগীকে নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঠাকুরগাঁও এডিপি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডা. মো. সাইদুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। সভাপতিত্ব করেন মো. আব্দুল হান্নান হান্নু, চেয়ারম্যান, ৮ নম্বর রহিমানপুর ইউনিয়ন পরিষদ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডমিনিক বিবেরু, প্রোগ্রাম অফিসার, ঠাকুরগাঁও এডিপি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ইউপিজি কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো অতি-দরিদ্র পরিবারগুলোকে শুধু সাময়িক সহায়তা প্রদান নয়, বরং তাদের আয়, সম্পদ ও সঞ্চয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্যের চক্র থেকে বের করে এনে টেকসইভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা।

কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের সামাজিক সুরক্ষা, জীবিকায়ন উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে পরিবারগুলোর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, সম্পদ ও সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক ও সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে নারী উপকারভোগীদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, পরিবারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অতি-দরিদ্র পরিবারকে স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনতে শুধু আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। তাদের নিজেদের আয়, সম্পদ ও সঞ্চয় গড়ে তোলার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। ইউপিজি কর্মসূচি সেই লক্ষ্যেই পরিবারগুলোকে ধাপে ধাপে স্বাবলম্বী করে তুলতে কাজ করছে।

উপকারভোগীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে ১৩৯ জন নারী উপকারভোগীর প্রত্যেকের মাঝে দুটি করে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এতে মোট ২৭৮টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, উপকারভোগীদের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের এলাকায় এসব চারা রোপণের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে ফলদ ও কাঠজাতীয় গাছের মাধ্যমে পরিবারগুলো উপকৃত হতে পারে।
১৩৯ জন নারী উপকারভোগীর গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন হওয়াকে দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।