তালা উপজেলা হতে কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সমবায় সমিতি, নেপথ্যের কারিগর উপজেলা সমবায় অফিসার রফিকুল ইসলাম


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১০, ২০২৬, ৬:৩৬ AM / ০
তালা উপজেলা হতে কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সমবায় সমিতি, নেপথ্যের কারিগর উপজেলা সমবায় অফিসার রফিকুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, তালা, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার তালা থেকে শত শত কোটি টাকা নিয়ে সমবায় সমিতি লাপাত্তা হলেও এ বিষয়ে উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম নির্বিকার। তিনি বিষয়টি একদমই আমলে নিচ্ছেন না।

এমনকি ভূক্তভোগী সদস্যরা তার দপ্তরে অভিযোগ করতে গেলে বিভিন্নভাবে হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। তাছাড়া তাঁদের সাথে করা হচ্ছে চরম দূর্ব্যবহার।অভিযোগ উঠেছে তাহলে কি সমিতি উধাও হয়ে যাওয়ার নেপথ্যে উপজেলা সমবায় অফিসার স্বয়ং নিজেই??
এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে একের পর এক পিলে চমকানো রহস্যময় তথ্য। যে রহস্যের পেছনে রয়েছে কোটি কোটি টাকার পরিকল্পিত গোপন বাণিজ্য।

তালা উপজেলার উপশহরে নিবন্ধিত “”তালা বাজার সঞ্চয় ও ঋনদান এবং আদর্শ বহুমুখী প্রাথমিক সমিতি””। উক্ত সমিতির প্রোপাইটার একাই সৈয়দ বাচ্চু হোসেন। উক্ত সমিতি দ্বয়ের সদস্যরা একাধিকবার অভিযোগ করলেও এক রহস্যময় ভূমিকায় দেখা গেছে উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলামকে।

সৈয়দ বাচ্চু হোসেন গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ইতিমধ্যে পাড়ি জমিয়েছেন সুদুর মালেশিয়ায়।

সদস্যদের অভিযোগ প্রতিকারের কোন সুরাহা না করে রফিকুল ইসলাম সম্প্রতি সৈয়দ বাচ্চু হোসনকে তালা উপজেলায় চলমান প্রকল্পের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে দিয়েছেন দুই লক্ষ টাকার ঋণ।
এ বিষয়ে একজন ভূক্তভোগী সদস্য জানান তিনি সমবায় অফিসার রফিকুল ইসলামকে এ বিষয়ে অবহিত করলে উল্টো রফিকুল ইসলাম তাঁকে ধমক দিয়ে বলেছেন, আপনি টাকা দিয়েছেন তার প্রমান কি ? ভূক্তভোগী ওই সদস্য বলেন যে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেও সৈয়দ বাচ্চু হোসেন অধিকাংশ সময় উপজেলা সমবায় অফিসারের সাথে সময় কাটাতেন।অভিযোগ রয়েছে বাচ্চু হোসেনের বিদেশে পাড়ি জমানোর পেছনে রয়েছে কোটি টাকার বাণিজ্য।

পাটকেলঘাটা শ্রমজীবি সমিতির নির্বাহী প্রধান শেখ রহমত আলী দীর্ঘদিন ধরে গরিব মানুষের তিলে তিলে জমানো কোটি কোটি টাকা ফেরত না দিয়ে ক্ষমতা আর প্রভাব অপব্যবহার করে বিলাস বহুল জীবন যাপন করছেন।

এ ঘটনার পেছনে রহস্যেও উঠে এসেছে উপজেলা সমাবায় কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলামের নাম।
উক্ত সমিতি যখন দেওলিয়া হয়ে সদস্যদের ক্ষোভের অনলে পুড়ছিলো তখন সমবায় কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম একক সিদ্ধান্তে উক্ত সমিতির সাধারণ সদস্যদের নিয়ে বিশেষ সভা আহ্বান করেন।

উক্ত সভায় সমবায় কর্তা রফিকুল ইসলাম আরেকজন সহকারী অফিসারের উপস্থিতিতে “শ্রমজীবি সমিতি”র টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

অতি সাম্প্রতি দেখা গেছে পাটকেলঘাটা শ্রমজীবি সমিতির তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি এ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সমবায় আইনের ১৮ এর ৫ ধারায় বলা আছে নির্বাচিত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনে ব্যর্থ হলে তিন বছরের পর উক্ত কমিটি বিলুপ্ত হবে এবং সমিতির নিবন্ধক নির্বাচন ও সমিতির সাধারণ কার্য পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি এ্যাডহক কমিটি তৈরী করবেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় সমিতির নির্বাহী শেখ রহমত আলীর প্ররোচনায় উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম বিপুল পরিমাণ অর্থ ও উপঢৌকনের বিনিময়ে বিলুপ্ত কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমে জেলা সমবায় অফিসার, সাতক্ষীরা এর মাধ্যমে ৩ সদস্যের একটি এ্যডহক কমিটি তৈরী করেছেন যা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ।

উক্ত সমিতি হতে উপজেলা সমবায় অফিসার রফিকুল ইসলাম নগদ ঋণ হিসাবে ৩ (তিন) লক্ষ টাকা নিয়েছেন ৫ বছর পূর্বে। অথচ অদ্যবধি তিনি উক্ত ঋণের কানাকড়িও পরিশোধ করেননি।

জনশ্রুতি আছে সমিতির নির্বাহী শেখ রহমত আলী উক্ত উপজেলা সমবায় অফিসার রফিকুল ইসলামকে পকেটে রাখতে ঋণের সেই ৩ (তিন) লক্ষ টাকা মওকুফ করিয়ে নিয়েছেন।

এছাড়া অনুসন্ধানী এ প্রতিবেদকের হাতে উঠে এসেছে উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম এঁর কোটি কোটি টাকার গোপন বাণিজ্যের তথ্য উপাত্ত। বড় কাশিপুর সমিতির জালাল হোসেন ইতোমধ্যে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। শেখ সিপাতূল্ল্যাহ পাটকেলঘাটা মানব কল্যাণ সমিতির নামে বাগিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা এবং যথারীতি বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

এছাড়া পাটকেলঘাটা “কপোতাক্ষ কৃষি ও মৎস্য সমিতি”গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আমানত নিয়ে অসহায়ের মত দিন যাপন করছেন। কপোতাক্ষ সমিতি মাঠে পাওনা ঋণ আদায়ের জন্য উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলামকে বার বার অনুরোধ করলেও তিনি আমলে নেননি।

জালালপুর ইউনিয়নের “আইডিয়াল শ্রমজীবি সমবায় সমিতি”র নির্বাহী প্রধান ইন্দ্রজিৎ দাশ বাপী গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন।

এসব বিষয়েও উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম কোন ব্যবস্থা নেননি। তার কারণ তিনি সকল সমিতি হতে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মোঃ রফিকুল ইসলাম তালা উপজেলায় চাকরি করছেন দীর্ঘ ০৬ বছরের উর্দ্ধে। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী সর্বসাকুল্যে তিন বছর পর পর কর্মকর্তাদের বদলির নিয়ম থাকলেও গোপনসিঁড়িতে মোটা অংকের অর্থ ঢেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম ম্যানেজ করেছেন উপরের মহলকে।

এ সকল অভিযোগের বিষয়ে সমবায় কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এসবের কোনোকিছুর সাথে জড়িত নই। পক্ষ বিপক্ষ থাকতে পারে, এক পক্ষ সুবিধা নিলে অন্য পক্ষ দোষারোপ করবে এটাই স্বাভাবিক। আমি তালা থেকে চলে যাওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নোটিশ করেছি।

তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও সমিতি সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁরা বলছেন, বদলির নোটিশ ফোটিশ সব আই ওয়াশ, এখানে যা লুটপাট ও আত্মসাৎ করার তার ষোলোকলা পূর্ণ করেছেন রফিকুল। এ কলাকায় এখন অবৈধ পন্থায় টাকা আসার সব দরজা বন্ধ। তাই বদলির নামে সমবায় কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সটকে পরতে চাইছেন।

তাছাড়া দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম ও বিভাগীয় তদন্তকে ধোঁয়াশায় রাখতে “বদলি নোটিশ” নাটক পরিকল্পিতভাবেই মঞ্চস্থ করা হচ্ছে।