
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের সাপলেজাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে দিদারুল আলম নামে এক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিদারুল আলম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে প্রচারিত কয়েকটি ছবিতে তাকে আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদ, উত্তর জেলা যুবলীগের নেতা খালেদ মাহমুদ এবং উত্তর জেলা ছাত্রলীগের নেতা হালিম আবদুল্লাহর সঙ্গে দেখা যায়। এছাড়া নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ছবিও রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে সম্প্রতি সাপলেজাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ সদস্যবিশিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গেছে। কমিটির অনুমোদনসংক্রান্ত কার্যক্রমে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ ধরও স্বাক্ষর করেছেন।
তবে প্রশ্ন উঠেছে—বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে দায়িত্ব পেলেন এবং তাকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হয়েছিল কি না।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, “কীভাবে এই নেতা দায়িত্ব পেলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
তবে দিদারুল আলমের রাজনৈতিক পরিচয়, ম্যানেজিং কমিটিতে তার অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া, সদস্যদের যোগ্যতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে যাচাই করে দেখা হলে এ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :