সরকারি সংগীত কলেজের শিক্ষককে ঘিরে নতুন অভিযোগ, পুরোনো বিতর্কে ফের আলোচনায় ইউনুছুর রহমান


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : জুন ৭, ২০২৬, ১:৪২ PM / ০
সরকারি সংগীত কলেজের শিক্ষককে ঘিরে নতুন অভিযোগ, পুরোনো বিতর্কে ফের আলোচনায় ইউনুছুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর সরকারি সংগীত কলেজের লোকসংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এম. এম. ইউনুছুর রহমানকে ঘিরে নতুন করে যৌন হয়রানি, মানসিক নির্যাতন, ক্ষমতার অপব্যবহার, ডিজিটাল হয়রানি এবং মিথ্যা মামলার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী তানজিদা আফরিন নিঝুম শের-ই-বাংলা নগর থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

এর আগে একই শিক্ষককে ঘিরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনা, অসদাচরণ, প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো এবং ছাত্রীদের প্রতি অনৈতিক আচরণের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। যদিও বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন অভিযুক্ত শিক্ষক।

নতুন অভিযোগপত্রে তানজিদা আফরিন দাবি করেন, শিক্ষাজীবনের সময় শিক্ষক ইউনুছুর রহমান তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের মাধ্যমে মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষকের প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে একাডেমিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখানো, ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানি এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে প্রভাব খাটানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং আইনগত হয়রানির অভিযোগও তোলা হয়েছে।

অন্য একটি অভিযোগপত্রে কলেজের ছাত্রাবাস ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, বহিরাগতদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে জিডি বা মামলা করার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে কলেজে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সে সময় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বিভিন্ন ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে অশালীন পোস্ট করেছেন এবং শিক্ষকতার অবস্থান ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া, কম নম্বর দেওয়া কিংবা একাডেমিক ক্ষতির ভয় দেখিয়ে অনেককে চাপে রাখা হতো। এছাড়া ব্যক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব দিয়ে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনের পর সম্পর্ককে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছিল।

তবে এসব অভিযোগকে শুরু থেকেই “মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করে আসছেন এম. এম. ইউনুছুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের কাছে পূর্বে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই একটি পক্ষ তাকে টার্গেট করছে এবং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

কলেজ-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক এম. এম. ইউনুছুর রহমানের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও প্রতিবাদ করায় সরকারি সঙ্গীত কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ জসীমকে পাশ কাটিয়ে গোপনে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কলেজ প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ইউনুছুর রহমানের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও অংশীজনদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি এবং কলেজ প্রশাসন বা অভিযুক্ত শিক্ষকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সরকারি সংগীত কলেজের অধ্যক্ষ নাদিয়া সোমা পূর্বে বলেছিলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও অভিমান থেকে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং কলেজের সুনাম রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তবে এখন অব্দি কোন প্রকার ব্যবস্থা তিনি নেন নি বলেও জানা গেছে।

নতুন অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক এম. এম. ইউনুছুর রহমানের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে অভিযোগকারী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।