বাবুগঞ্জে এলজিডি’র উপজেলা প্রকৌশলী এনামুল হক আলিমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : জুন ৮, ২০২৬, ৪:২১ PM / ০
বাবুগঞ্জে এলজিডি’র উপজেলা প্রকৌশলী এনামুল হক আলিমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, বরিশাল:

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিডি) কার্যালয়ের উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এনামূল হক আলিমের বিরুদ্ধে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিষয়টিও সামনে আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে রহস্যজনক কারণে নানাবিধ অভিযোগে অভিযুক্ত বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান ও রয়েছেন নিশ্চুপ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি প্রকল্পের সিপিসি (কমিউনিটি প্রকিউরমেন্ট কমিটি) হিসেবে স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াদুলকে দায়িত্ব দেন উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম। ওই প্রকল্পের আওতায় দপ্তরের টয়লেট মেরামত ও আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য প্রায় ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে কিঞ্চিৎ কাজ করেই পুরো বরাদ্দের টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এদিকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাত থেকে উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দের আওতায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৮৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও অধিকাংশ প্রকল্পেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে এসব কাজ বণ্টন করা হয়েছে। আর এই বন্টন প্রক্রিয়ায় বাবুগঞ্জ এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এনামূল হক আলিম ১০% হারে নগদ কমিশন গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের টাইলস মেরামতের একটি কাজও। প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার এই প্রকল্পটি টেন্ডারের মাধ্যমে ‘বিডি ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পেলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ করতে না দিয়ে পুরনো কাজ দেখিয়েই বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

এছাড়া কেদারপুর এইচএস জামে মসজিদের ওজুখানা নির্মাণে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও যথাযথ কাজ সম্পন্ন না করেই ‘চৌধুরী কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে বিল প্রদান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও বাসিন্দাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর উপজেলা ও কয়েকটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান না থাকায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তদারকিতে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাট শুরু করে।

তবে এসব অভিযোগ কল দিলে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।

এই সংবাদের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রশ্নে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এনামূল হক আলিম ফোন রিসিভ না করাই তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।