
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ, ভূয়া শিক্ষার সনদ ও বয়স জালিয়াতি করে মুজিবনগর কর্মচারী সেজে
স্বৈরাচার সরকার আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত সাব-রেজিষ্ট্রাররা এখনও বহাল তবিয়তে, সকল প্রকার জবাবদিহিতার উর্ধে ও ধরাছোঁয়ার বাইরে। ১৭৬ জন ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার ও জেলা রেজিস্ট্রারের সম্পর্কে অনুসন্ধানে উঠে আসে পিলে চমকানো তথ্য। মূলত: তারা অর্থের বিনিময়ে নিজ নিজ জন্ম সনদের তারিখ কে মেট্রিক বা এসএসসি পাশের সাল হিসেবে চালিয়ে দিয়েছেন অত্যন্ত চাতুরতার সাথে। আর এসব ভূয়া সাব রেজিস্ট্রারের এমন অনৈতিক কার্যক্রমকে বৈধতা দিতে জাল সার্টিফিকেট প্রস্তুত করে দেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী পরিচয়ে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম গংরা রয়ে গেছেন এখনো বহাল তরিয়তে, রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ, ভুয়া শিক্ষার সনদ ও বয়স জালিয়াতি করে সাব-রেজিষ্ট্রার পদে চাকুরী হাতিয়ে নেন তারা।
চাকুরীতে যোগদানের পরে ঘুষ, বাণিজ্য লিপ্ত হয়ে সকলেই এখন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। দূর্নীতি দমন কমিশন দুদকে অনেকেই হাজিরা দিচ্ছেন আবার অনেকেই পতিত সরকারের আমলে দুদকে অসৎ কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করে তাদের অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়ে গেছেন মর্মে NOC বাগিয়ে নিয়েছেন।

ঢাকা জেলার ধামরাইয়ের কালামপুরের মুজিবনগর, সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম এর দূর্নীতির কারণে সরকার বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।
সূত্রে জানা যায়, ০৭-১২-২০০৯ সালে মজিব নগর কর্মচারী সাব রেজিষ্ট্রার হিসাবে চাকরী পেয়ে যান ভুয়া শিক্ষা ও মুক্তিযোদ্ধা সনদে। চাকুরী শুরু হইতে তজিমুদ্দিন ভোলা, আমতলী বরগুনা, মটবাড়ীয়া, পিরোজপুর, লক্ষীপাসা নড়াইল, সোনাইমুড়ি, নোয়াখালী, বগুড়া সদর, গাইবান্ধা সহ পরবর্তীতে ঢাকা জেলা কালামপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে ০২-০৭-২০২৪ তারিখে যোগদান করেন।
চাকুরী জীবনে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকী দিয়ে বনে গেছেন শত কোটি টাকার মালিক। লীগ সরকারের আমলে দাপিয়ে বেড়ানো সাব-রেজিষ্ট্রার মঞ্জুরুল ইসলাম বনে গেছেন এখন বিএনপি পন্থী। ১৫-০৬-২০২৫ সালে অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও ১বছর চাকরি বর্ধিতকরণ করা হয় ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। এর আগে বেপরোয়া হয়ে ঘুষ, দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেন ধামরাই কালামপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসকে। তার একান্ত সহচর হিসেবে ছিলেন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নকল নবিশ পারুল আক্তার ও তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত টি সি মোহরার আব্দুস সাত্তার। তাদের আরও সহযোগী নকলনবিশ বজলুর রহমান, আব্দুর রহিম, আরিফুল গংরা। সাব-রেজিষ্ট্রার ও নকল নবিশ পারুলের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েন সাধারণ দলিল লেখকগণ। ২০২৪ সালে দলিল নং-১৩৪৬, ৭৫২,১০৮৬,১১৫৬,২১৩৭ মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করেন সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম ও নকল নবিশ পারুল আক্তার। নারী কেলেঙ্কারীতেও পিছিয়ে নেই সাব-রেজিষ্ট্রি মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম।
সূত্র মতে চাকুরী প্রাপ্ত সময় ভুয়া শিক্ষা সনদ দেখিয়েছেন বিএ পাস এর সার্টিফিকেট দিয়ে সাব-রেজিষ্ট্রার পদ বাগিয়ে নেন। সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম তার জন্ম ১৯৬৬ সালের ১৬ জুন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বয়স ছিল মাত্র ৪ বছর ৯ই মাস। মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে এসব ভূয়া সাব-রেজিষ্ট্রারদের সকলের বয়স ছিলো ২/৩ বছর থেকে ৫/৬ বছর।

মুজিবনগর সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৯৬৭ সালের ২রা এপ্রিল। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় চার বছর এক মাস বয়স ছিল তার। এত অল্প বয়সেও তারা মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। এই দুজনের মতো মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ২৭ জন সাব-রেজিস্ট্রার এখনো কর্মরত। মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে কর্মস্থলে তাদের রয়েছে ব্যাপক আধিপত্য।
প্রভাবশালী এসব কর্মকর্তা পদায়ন বাগিয়েছেন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে। সূত্রে জানা যায়, স্বৈরাচারী আওয়ামীল সরকারের আমলে তৎকালীন আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিকুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম কে কয়েক কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেখিয়ে চাকুরী পায়ে দেন এই সকল সাব-রেজিষ্ট্রার কে। নিয়োগের তালিকা অনুযায়ী ১৯৬৭, ১৯৬৬, ১৯৬৫ সালে জন্মতারিখ আছে এমন সংখ্যা ছিল অনেক। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধকালে তাদের বয়স ছিল ৪ থেকে ৬ বছর। জালিয়াতির মাধ্যমে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া নিয়ে তখন নিবন্ধন অধিদপ্তরসহ আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে আইজিআর অফিসে একাধিক কর্মকর্তাগণ আজকের পেপার কে জানান।
সর্বশেষ ২০২০ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ৬৭০ জন। এই মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিপ্রাপ্তদের বেশিরভাগই ভুয়া বলে অভিযোগ ছিল শুরু থেকেই।নিয়োগের কিছুদিন পরই নিয়োগপ্রাপ্তরা ভুয়া, তাদের অনেকেই মুজিবনগর কর্মচারী নন এবং মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে তারা যে সার্টিফিকেট প্রদান করেছেন, তাও ভুয়া এমন অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগ তদন্তে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এরপর ২০১১ সালের জুনে মুজিবনগর সরকারের কর্মচারীর ভুয়া পরিচয়ে চাকরি নেওয়া ১৬ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বরখাস্ত করা হয়। পরে তারা ফের হাইকোর্টে রিট করে চাকরিতে ফিরেন বলে সূত্র জানায়। ৪-৫ বছর বয়সী যেসব মুক্তিযোদ্ধা এখনো কর্মরত: মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত

সাব-রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লাকে রাজধানী ঢাকার উত্তরা থেকে গতবছর বদলী করা হয় নীলফামারীর জলঢাকায়।
তিনি ৫ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা। জন্ম ১৯৬৬ সালের ১লা জানুয়ারি। মুক্তিযুদ্ধকালীন তাঁর বয়স ছিলো ৫ বছর। এই সাব রেজিস্ট্রার এর আগে রাজধানীর উত্তরা সাব রেজিস্ট্রার এর দায়িত্ব পেয়ে আওয়ামী সরকারে ক্ষমতার বলয়ে পে অর্ডারের টাকা লুটপাট, AP/VP সড়ক ও জনপথের জমি, বন বিভাগের জমি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ডেভলপার কোম্পানি এবং প্রভাবশালী আওয়ামী নেতা, আওয়ামী দলীয় মন্ত্রী – এমপিদের মাঝে রেজিষ্ট্রেশন করে দিয়ে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে যশোরের চৌগাছায় বদলি হওয়া সাব-রেজিস্ট্রার মো. আবুল হোসেনের জন্ম ১৯৬৬ সালের ১১ই নভেম্বর। যুদ্ধের সময় আবুল হোসেনের বয়স ছিলো ৪ বছর ৪ মাস। ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও ভূয়া শিক্ষা সনদে সাব রেজিস্ট্রার পদে চাকরি করে তিনিও এখন ডাকসাইটে অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যক্তিতে প্রতিষ্ঠিত।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার খোন্দকার গোলাম কবির। সাব-রেজিষ্ট্রার গোলাম কবির চাকুরী নিয়োগের সময় তার ভুয়া শিক্ষা সনদ দাখিল করেন এমবিএ পাশের, নিজ জেলা রংপুর বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন এছাড়াও ঢাকা, উত্তরা, মতিঝিল, খিলগাঁও সহ নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ক্রয় করেছেন তিনি। গাজীপুর, কালিকৈর, গাজীপুর কালিগঞ্জ, সাব-রেজিষ্ট্রার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ভুয়া দলিলপত্র ও সরকারের বন বিভাগের রাষ্ট্রীয় জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেজিষ্ট্রি করে দিতে পিছ পা হন নাই তিনি। টাকা হলে নামজারি ও খারিজ খতিয়ানের ফটোকপি দিয়ে দলিল সম্পাদন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম রাউজান বদলী করা হলে সেখান থেকে পুন:রায় নারায়ণগঞ্জ জেলায় রূপগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রী অফিসে ১১-১২-২০২৩ সালে যোগদান করেন। গতবছর তাঁ রূপগঞ্জ থেকে বদলি করা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে।
রূপগঞ্জে তার একান্ত সহযোগি হিসেবে ছিলেন নকল নবিশ মঞ্জুরুল, দলিলের পেনসিল দিয়ে সংকেত দিলে দেখে দলিল সম্পাদন করতেন সাব-রেজিষ্ট্রার গোলাম কবির।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উক্ত অফিসের একাধিক কর্মচারী জানান সাব-রেজিষ্ট্রার গোলাম কবির তার সাথে দুপুরের খাবারের টিফিন বাটির ভিতরে রাতে ঐ সকল ঘুষের টাকা বহন করতেন। তিনিও ৫ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা। তার জন্ম ১৯৬৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি।

গাজীপুরের শ্রীপুরের ওসমান গনি মন্ডল। তাঁর জন্ম ১৯৬৬ সালের ২৪ জুলাই। কেরানীগঞ্জ মডেল অফিসে সাব-রেজিষ্ট্রার থাকালীন ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, দূর্নীতির অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ঘুষ ছাড়া কোন দলিল সম্পাদন হতো না তার নিকট। নারী কেলেঙ্কারীতেও পিছিয়ে নেই তিনি। এছাড়া গাজীপুরের শ্রীপুরেও তিনি জাল জালিয়াতি অব্যহত রাখেন।
অফিসে সুন্দরী নকল নবিশদের কে বিভিন্ন অজুহাতে সম্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে ও অসৎ আচারণের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
রাজধানী উত্তরায় ৬ষ্ঠ তলা বিশিষ্ট বাড়ী নির্মাণ করেছেন কয়েক কোটি টাকা খরচ করে। তাঁর নিজ জেলা কুড়িগ্রামে ডুপ্লেক্স বাড়ী নির্মাণ করেছে কোটি টাকা খরচ করে। এভাবে নামে-বেনামে অবৈধ পন্থায় শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ সদরের মিনতী দাস। তাঁর জন্ম ১৯৬৬ সালের ১৪ই মার্চ। তিনিও ৫ বছর বয়সে মুক্তিযোদ্ধা। কিশোরগঞ্জ সদরের সাব-রেজিস্ট্রার মিনতি দাসের জন্ম ১৯৬৬ সালের ১৪ই মার্চ। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল ৫ বছর। মাত্র ৩ থেকে ৫ বছর বয়সেও তারা মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি চাকরি পেয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে। মিনতি দাসের স্বামী পরিতোষ দাস ও একজন ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার। এঁরাই দেশের ইতিহাসে একমাত্র ” ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার দম্পতি” অনেকটা “রতনে রতন চেনে” স্ট্যাইলে এই দুই ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার সাত পাকে বাঁধা পড়েন।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ভূয়া সাব-রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী মিয়া। তাঁর জন্ম ১৯৬৫ সালের ২৮শে জানুয়ারি।

চট্টগ্রামের রাউজানের আবু তাহের মো. মোস্তফা। তার জন্ম ১৯৬৫ সালের ১৯ আগস্ট।

ঢাকা রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্স ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম খ্যাত ভূয়া সাব-রেজিস্ট্রার মো. ওমর ফারুক। তাঁর জন্ম ১৯৬৫ সারের ১৫ই জুন।
নোয়াখালীর চাটখিলের মো. আবুল বাশার। তাঁর জন্ম ১৯৬৭ সালের ১৫ই মে।

ফেনী সদরের সাব-রেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকার। জন্ম ১৯৬৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর।
নওগাঁর মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্ট্রার রফিক উদ্দিন। জন্ম ১৯৬৫ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি।
সদ্য অবসরে যাওয়া নওগাঁর নিয়ামতপুর- পত্নতলার মুক্তিওয়ারা খাতুন। তাঁর জন্ম ১৯৬৫ সালের ২৮ অক্টোবর।
রংপুরের পীরগঞ্জের আফছার আলী। তাঁর জন্ম ১৯৬৬ সালের ১১ই অক্টোবর।

বাগেরহাটের মোংলার সাব-রেজিস্ট্রার স্বপন কুমার দে। তাঁর জন্ম ১৯৬৬ সালের ১৮ই এপ্রিল।

পটুয়াখালী সদরের সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ফারুকের জন্ম ১৯৬৮ সালের ২৫ মে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র ৩ বছরেরও কম। ইতোমধ্যে তিনি ঘুষ দুর্নীতি ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে গড়েছেন নামে বেনামে অঢেল সম্পদের পাহাড়। আর এসব অবৈধ কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত সহকারী আব্দুর রউফ খান।
ভোলার লালমোহনের সাব-রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম, জন্ম ১৯৬৫ সালের ২রা ডিসেম্বর।
মেহেরপুরের সাবেক ভূয়া জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. আকবর আলী। তাঁর জন্ম ১৯৬৫ সালের ২রা জানুয়ারি। তারপরও ঘুষ দুর্নীতির কালো টাকা আর গোপন সিঁড়িতে উপঢৌকন ব্যবহার করে পদন্নোতি বাগিয়ে নিয়ে হয়েছেন জেলা রেজিস্ট্রার।
ভূয়া জেলা রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলাম। তাঁর জন্ম ১৯৬৫ সালের ৩১শে মার্চ। তারা সবাই মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের মধ্যে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যাই বেশি বলে অভিযোগ আছে। তবে নিবন্ধন অধিদপ্তরে তাঁদের দাপট অনেক বেশি। তারা ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সাব-রেজিষ্ট্রীর অফিসগুলোতে পদায়ন বাগিয়ে নেন। এভাবে
ঐ সকল লোভনীয় জায়গায় পোষ্টিং নিয়ে দৈনিক লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে শুরু থেকেই।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে বয়স নির্ধারণ করা সাড়ে ১২ বছরের কম বয়সি মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন তাঁরা। এমনকি দুর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ সম্পদের মালিক বনে যাওয়া প্রভাবশালী এই কর্মকর্তারা পদায়ন বাগিয়েছেন ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোতে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্যদের চেয়ে এক বছর বেশি চাকরি করার সুবিধাও ভোগ করছেন তাঁরা।
মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে মধ্য বয়সে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে চাকরি পাওয়ার পর বেশিরভাগ কর্মকর্তাই রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার লক্ষ্যে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন বলে নিবন্ধন অধিদফতরের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, অনেকের তেমন কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকার পরও ভুয়া শিক্ষাগত সনদ দেখিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার হয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এবং বেশি বয়সে যোগদান করায় তাদের চাকরি যেহেতু অল্প কয়েক বছরের জন্য তাই তারা এই অল্প সময়ের মধ্যেই প্রচুর অর্থ সম্পদ বানিয়ে নিয়েছেন। অনেকেই টাকার বিনিময়ে ব্যক্তি নামে খাস জমি নিবন্ধন, শ্রেণি পরিবর্তন করে ও ভুয়া খাজনা খারিজ নিয়ে জমি নিবন্ধন করে দিয়েছেন।
মুজিবনগর সরকারের কর্মচারীর ভুয়া পরিচয়ে চাকরি নেওয়া এবং দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগে ২০১২ সালে ৩৯ জনকে বরখাস্ত করেছিল আইন মন্ত্রণালয়। তবে উচ্চ আদালতে গিয়ে তাদের অনেকেই আবার চাকরি ফিরে পান।
দুর্নীতি ও জালিয়াতির দায়ে বরখাস্ত হলেও উচ্চ আদালতে গিয়ে চাকরি ফিরে পাওয়াদের মধ্যে একজন রংপুর সদরের সাব-রেজিস্ট্রার রামজীবন কুণ্ডু।

তাঁর জন্ম ১৯৬৫ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল ৫ বছর। এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও রয়েছে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।
তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলের সংসদ-সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ সেনের ভাগ্নি জামাতা বলে পরিচয় দিতেন। এই পরিচয়ের সূত্রে এবং রংপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা হওয়ায় ক্ষমতার দাপটে তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি একাধিক হত্যা মামলার আসামি বলে জানা যায় এনসিপি নেতা উত্তরবঙ্গের মূখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।

নামে বেনামে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি। অবৈধ উপায় মানি লন্ডারিং করে রামজীবন কুণ্ডু ও তার ইতোমধ্যে কলকাতাকে বানিয়েছেন সেকেন্ড হোম। রয়েছে তাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব। পশ্চিম বাংলার রাজ্য সরকারের একজন আধিকারিকের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে নিয়েছেন ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড।

গাজীপুরের টঙ্গীর সাব-রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামালের জন্ম ১৯৬৫ সালের ১৭ জুলাই। তিনি ৬ বছর বয়সে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলে দাবি করেছেন।
রংপুরের পীরগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার আফছার আলীর জন্ম ১৯৬৬ সালের ১১ অক্টোবর। যুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন ৪ বছর ৪ বয়সী শিশু মুক্তিযোদ্ধা ???
ফেনী সদরের সাব-রেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিনের জন্ম ১৯৬৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি ছিলেন ৫বছর বয়সী কথিত মুক্তিযোদ্ধা ???

বরিশাল সদর থেকে সম্প্রতি বদলি হওয়া দেশসেরা শীর্ষ লুটেরা সাব রেজিস্ট্রার অসীম কল্লোলের জন্ম ১৯৬৫ সালের ১৩ই আগস্ট। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন ৫ বছর ৭মাস বয়সী শিশু। ২০০৯ সালে মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী পরিচয়ে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও ভূয়া শিক্ষা সনদে সাব রেজিস্ট্রার হয়ে সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে হয়েছেন দেশের শীর্ষ লুটেরা সাব রেজিস্ট্রার। নামে বেনামে গড়েছেন ৫০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়। করেছেন মানি লন্ডারিং। স্ত্রী, শ্যালক ও বাড়ির কেয়ারটেকারের নামে কিনেছেন দামি গাড়ি, আলিশান ভবন, মাছের ঘের, ফার্ম হাউজ সহ ১০০ বিঘা ফসলী জমি। রাজধানীতেও রয়েছে একাধিক বাড়ি, ফ্লাট। অসীম কল্লোল ও তাঁর স্ত্রী ইতোমধ্যে কলকাতায় বানিয়েছেন সেকেন্ড হোম, করেছেন বিশাল টাকার ব্যবসায়িক লগ্নী।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মো. ওবায়েদ উল্লাহর জন্ম ১৯৬৬ সালের ১লা জানুয়ারি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন ৫ বছর ৩ মাস বয়সী শিশু।
বগুড়ার শেরপুরের সাব-রেজিস্ট্রার মো. মিজানুর রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২৫শে নভেম্বর। তিনি ছিলেন যুদ্ধকালীন সময়ে ৫ বছর বয়সী ইতিহাসিক শিশু মুক্তিযোদ্ধা !!!!
এ ছাড়া মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ পাওয়ার পর পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে মেহেরপুরের জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত মো. আকবর আলীর জন্ম ১৯৬৫ সালের ২ জানুয়ারি এবং কিশোরগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলামের জন্ম ১৯৬৫ সালের ৩১ মার্চ। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের সবার বয়সই ছিল মাত্র ৪ থেকে ৬ বছর। কিন্তু তারপরও মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে চাকরি নেওয়ার পর এখন কোটি কোটি টাকার মালিক তারা। তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই দুদকে অভিযোগ আসার পর তদন্ত হচ্ছে।
মুুক্তিযুদ্ধের সময় ৫ বছর বয়স থাকার পরও মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে চাকরি পাওয়া কিশোরগঞ্জ সদরের সাব-রেজিস্ট্রার মিনতি দাসের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে প্রচুর দলিল করার অভিযোগ রয়েছে, যা দুদক তদন্ত করছে। তিনি গাজীপুর সদরে থাকাবস্থায় সকালে একটি জমি প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্য দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করেন এবং মাত্র এক ঘণ্টা পর পরবর্তী দলিলে ২২ কোটি টাকা মূল্য দেখিয়ে ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ দলিল করে দেন। এভাবে তিনি দলিলদাতাকে ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকার পল্লবী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্বে থাকাকালে ২০১৯ সালের ৮ আগস্ট ৪৯৬১ নং সাফ কবলা দলিল রেজিস্ট্রির সময় শ্রেণি পরিবর্তন করে সরকারের ৫৩ লাখ ১১ হাজার ১৪৮ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ করে দেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ সদরের সাব-রেজিস্ট্রার মিনতি দাস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আইন মন্ত্রণালয় ও নিবন্ধন অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এই সাব-রেজিস্ট্রাররা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কত সালে পাস করেছেন, মুক্তিযুদ্ধকালে কোনো সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, মুজিবনগর সরকারে তারা কোন পদে কর্মরত ছিলেন তার কোনো তথ্য মন্ত্রণালয় বা নিবন্ধন অধিদফতরের কাছে নেই। মন্ত্রণালয় শুধু উচ্চ আদালতের নির্দেশে একটি তালিকা পেয়ে তাদের আত্তীকরণ করেছে।
সাব-রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান জানান, আদালতের রায়ে তারা মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে চাকরি পেয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বয়স ৫ বছর হওয়ার পরও কীভাবে কর্মচারী ছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালত সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে ২০০৯ সালে ১৯০ জনকে সাব-রেজিস্ট্রার পদে আত্তীকরণ করা হয়েছিল উচ্চ আদালতের নির্দেশে। নিয়োগের সময় একটি কমিটি যাচাই-বাছাই করে ১৯০ কর্মচারীর মধ্যে মাত্র ৩০ জনকে প্রকৃত মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে চিহ্নিত করলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় সবাইকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের নেপথ্যে ছিলেন তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৯৬৮, ১৯৬৭, ১৯৬৬ ও ১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরাও ছিলেন যাদের বয়স মুক্তিযুদ্ধের সময় মাত্র ৩ বছর থেকে ৬ বছর ছিল। জালিয়াতির মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া নিয়ে তখন নিবন্ধন দফতরসহ আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। কারণ মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। ওই সরকারের কর্মচারী হতে হলে তাদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হওয়া বাঞ্ছনীয়। সে ক্ষেত্রে তাদের জন্মসাল হওয়া দরকার ১৯৫২ অথবা তার পূর্বে। কিন্তু নিয়োগ পাওয়াদের সবারই জন্মতারিখ ছিল ১৯৫৩ সালের পরে। এর মধ্যে ১৩৮ জনের বয়সই ছিল ১০ বছরের নিচে। আর ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সালে জন্মতারিখ আছে এমন সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫ জন। মূলত ৬৫ সালের পরে যাদের জন্ম দেখানো হয়েছিল তারাই এখন কর্মরত রয়েছেন এবং আগামী বছর তারা সবাই অবসরে যাবেন। তাই শেষ মুহূর্তে দুর্নীতির মাত্রা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিবন্ধন অধিদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. আবদুস ছালাম আজাদ সময়ের আলোকে বলেন, মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে সাব-রেজিস্ট্রার পদে আত্তীকরণ হওয়া কর্মকর্তাদের শিক্ষাগতসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত কোনো তথ্য অধিদফতরে নেই। এটা নিয়োগকারী মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকার কথা। তবে তাদের উচ্চ আদালদের নির্দেশে মন্ত্রণালয় অধিদফতরে পদায়ন করেছে। তারা যোগদান করার পরে তাদের জন্য ফাইল খোলা হয়েছে। তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। দুদকও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে ৩ থেকে ৬ বছর বয়সে যারা মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন তারা সবাই ভুয়া। কারণ এই বয়সে সরকারের কর্মচারী হওয়া বা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স মন্ত্রণালয় থেকে সাড়ে ১২ বছর নির্ধারণ করা আছে। এর চেয়ে কম বয়সি যারা রয়েছেন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। অনেকে মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও তালিকাভুক্ত হয়ে সব সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :