
অনুসন্ধানী প্রতিবেদক,সজীব আকবর, ঢাকা:


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় কোন ফাইল কত দ্রুত এগোবে এবং কে কত টাকা দিলে কাজ সম্পন্ন হবে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জমির দলিল, নকল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে এক ধরনের অঘোষিত “”মূল্য তালিকা”” চালু রয়েছে। এই তালিকার বাইরে গিয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সেবা পাওয়া অসম্ভব বলে জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
তীব্র অভিযোগ রয়েছে, নকলনবীশ এনামুল এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করেন। তার মাধ্যমে ফাইল আটকে রাখা, অযথা ত্রুটি দেখানো এবং দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বাধ্য করার মতো কৌশল ব্যবহার করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ সময়মতো সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হন।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অফিসে সরাসরি গেলে নানা অজুহাতে দলিল কব্জাবকরে ঘুরানো হয়। পরে নির্দিষ্ট দালালের মাধ্যমে অথবা সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির সাহেবের সিন্ডিকেটভূক্ত হারিছ, আওলাদ, আকিব, ইউসুফ বা অন্য কারো কাছে গেলে শুধু শুধু সময় নষ্ট হয়,সেরেস্তা খরচ আর বড়সাহেবের নাস্তা বিলের রেট কখনো কমেনা বরং বাড়ে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একই পদে থেকে এনামুলসহ সংশ্লিষ্টরা একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে অফিসের ভেতরের কার্যক্রম কার্যত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এই চক্রের কারণে সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যেমন এনামূল আওলাদ সিন্ডিকেটে আইনসঙ্গত স্টাফ আব্দুস সোবহান, বাবু হালদারদের মতো অনেক কর্মীই আওলাদ, আকিব, এনামূল, হারিছ,আয়নাল সিন্ডিকেটের ভয়ে অফিসে ঢুকতে পারেন না।

এই বিষয়টি একাধিকবার সংবাদ শিরোনাম হলেও সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদির এবং জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান কখনো বিষয়টি সামনে আনেননি।
তাছাড়া আওলাদের ভাই আকিবের মতো নিয়োগ বিহীন কথিত স্টাফরা কতোকাল গোপনীয় রেকর্ডরুম দাপিয়ে বেড়াবে, কতোদিন দলিলের তথ্য পাচার করবে, আর কতো বছর এরা দাতা গ্রহীতাদের জিম্মি করে দলিল আটকে লুটপাট বাণিজ্য চলমান রাখবে সেসব বিষয়েও অফিস প্রধান থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ” কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই”। তাঁরা আছেন শুধু কালেকশনের টাকা থেকে নিজের বখরা বুঝে নিতে মরিয়া।

সম্প্রতি অফিসের মহিলা স্টাফ শিউল জাহানের ড্রয়ার থেকে আওলাদ এনামূল হারিছ গং পে অর্ডারের ২ লাখ টাকার বান্ডিল চাঁদার দাবিতে ছিনিয়ে নিলেও সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদির বা জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান দৃশ্যমান ন্যায্য কোনো বিচার করতে পারেননি।
ফলে শিউলি জাহানের অশ্রজল আর বুকের ভীতর নীরব রক্তক্ষরণ এখনো বহমান। আদতেও শিউলী বিচার পাবেন কি-না, না-কি উল্টো এই সিন্ডিকেট শিউলী কে অফিসের টাকা বা দলিলের পাতা লোপাটের অভিযোগ তুলে চোর সাব্যস্ত করে কি-না সেটাই এখন দেখার বিষয়।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, এনামূল আওলাদ সিন্ডিকেট এমন রক্তপিপাসু চরিত্র বলবৎ রাখলে মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে সাধারণ মানুষের জন্য জমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ ভয়াবহ অনিশ্চয়তার অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।
এমন পরিস্থিতিতে IRO মোহাম্মদ মতিউর রহমান এবং IGR ( মহা পরিদর্শক নিবন্ধন ) শামীমা আফরোজ মহোদয়ের কঠোর হস্তক্ষেপ ও দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের আকষ্মিক অভিযান কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আপনার মতামত লিখুন :