সজীব আকবর,অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:
BRSA(বাংলাদেশ রেজিষ্ট্রেশন সার্ভিস এসোসিয়েশন) এর ২০২৫-২৬ কমিটির ৪২ সদস্যের মধ্যে কারো বিষয়ে কোনো গুঞ্জন বা আলোচনা সমালোচনা না থাকলেও একজনকে নিয়ে বিতর্ক রয়েছে শুরু থেকেই। তিনি রূপগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর শ্রীপুরের বহুল আলোচিত সাব রেজিস্ট্রার মুজিবনগর সরকারের কথিত কর্মচারী ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা ও জাল শিক্ষা সনদে মধ্য বয়সে সাব রেজিস্ট্রার এর চাকরি পাওয়া ওসমান গণি মন্ডল। তিনি জন্মের পূর্বেই মেট্রিক পাশ করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ? পতিত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক আইজিআর শহিদুল ইসলাম ঝিনুক মহোদয়ের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে ঘুষ-দুর্নীতি ও জাল জালিয়াতিকে তিনি শৈল্পিক পর্যায়ে অধিষ্ঠিত করেছেন। কথায় কথায় জমির শ্রেণী পরিবর্তন, AP/VP এবং বন বিভাগের জমি ডেভলপার কোম্পানি ও ব্যক্তি মালিকানায় নিবন্ধন করে দিয়ে নামে বেনামে গড়েছেন অঢেল অবৈধ সম্পদের পাহাড়। এছাড়া তিনি একাধিক ব্যাংক একাউন্ট এবং একাধিক বিকাশ ও নগদ সিম ব্যবহার করে থাকেন।
বর্তমানে তিনি ঐতিহ্যবাহী BRSA কমিটির ৭ নং সহ সভাপতি। এই কমিটির ৪২ সদস্যের মধ্যে একমাত্র ওসমান গণিই হলেন ” এক টিন দুধে একফোঁটা গো-চোনা।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলাম, যশোর জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুল মোতালেব ও বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়া বলেন, এ ধরণের বিতর্কিত ব্যক্তিকে বহিস্কার না করে ইস্তফা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিৎ এবং পরবর্তিতে শূন্য পদে নতুনদের সুযোগদানের পথ প্রশস্ত করা দরকার।

পতিত স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সুবিধাজনক জায়গায় পোষ্টিং নিয়ে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে
ওসমান গণি মন্ডলের বিরুদ্ধে। মুজিবনগর সরকারের কথিত কর্মচারী হিসেবে ভুয়া শিক্ষা সনদ, মুক্তিযোদ্ধা সনদ জমা দিয়ে সাব-রেজিষ্ট্রার পদে চাকুরী পেয়ে খুলে যায় তাৃর ভাগ্যের চাকা। চাকুরী পাওয়ার পূর্বে ” নুন আন্তে পান্তা ফুরাতো” ওসমান গণি মন্ডলের কৃষক পিতার। বর্তমানে ৪০০ কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর ভূয়া সাব-রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি মন্ডল।
এর আগে গত ০৩-০২-২০২৫ তারিখে মোঃ নুর ইসলাম, মহা-পরিদর্শক নিবন্ধন অধিদপ্তর কর্তৃক স্বাক্ষরিত যার স্মারক নং ১০.০০.০০০০.১৩০.১৯.০০১.২১-২৭ স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে মহা ঘুষখোর গাজীপুরের শ্রীপুর সাব-রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি মন্ডলকে সদর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস পাবনা বদলী করেন। বদলী আদেশ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আইন ও বিচার বিভাগকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে বদলীস্থল যোগদান না করে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন দেদারচ্ছে।

( আরো পড়ুন: কক্সবাজারের ৭ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে চলছে মৎস্যন্যায় অবস্থা www.ajkerpaperbd.com )
তাঁর অবৈধ কালো টাকার প্রভাবে পাবনায় যোগদান না করে পরবর্তীতে গত ২০-০২-২০২৫ তারিখ মহা-পরিদর্শক নিবন্ধন অধিদপ্তর মোঃ নূর ইসলাম এর স্বাক্ষরিত স্মারক নং- ১০.০০.০০০০.১৩০.১৯.০০১.২১-৪৬ স্মারক মূলে পাবনায় বদলীকৃত সাব-রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি মন্ডলকে কাপাসিয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিস গাজীপুর বদলী করা হয়। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়া সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে দেদারসে বন বিভাগের জমি নিবন্ধন করে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সাব-রেজিষ্ট্রার বলেন ২ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে বদলী আদেশটি বাতিল করে গাজীপুর কাপাসিয়া সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে বদলী হন ওসমান গণি।
সাব-রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি মন্ডল নারী কেলেঙ্কারীতেও পিছিয়ে নেই। তার অধীনে সুন্দরী নকল নবিশদেরকে বিভিন্ন ভাবে কুপ্রস্তাব দেন, তার ইশারায় রাজি না হলে বিভিন্ন হয়রানি হতে হয় তাদেরকে এবং প্রকাশ্যে এজলাসে বসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে সাব রেজিষ্ট্রার পদে ০৭-১২-২০০৯ সালে চাকুরিতে যোগদান করেন তিনি। অথচ তার জন্ম তারিখ দেওয়া হয়েছে ২৪-০৭-১৯৬৬ সালে অর্থাৎ সাড়ে ৪ বছর বয়সে তিনি না-কি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে অসীম বীরত্বের সাথে শক্তিশালী পাক আর্মিদের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ করেছিলেন ??
ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সাব রেজিষ্ট্রার পদে চাকরিতে জীবন বৃত্তান্তে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন বি.এ পাস অথচ খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি কোনোরকম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে থার্ড ডিভিশনে মেট্রিক পাশ করেন।
এরপর কম্পিউটার কারসাজির মাধ্যমে এইচ.এস.সি ও বি.এ পাসের শিক্ষা সনদ জাল করে এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দেখিয়ে তৎকালীন আইনমন্ত্রী শফিকুর রহমানকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে মধ্য বয়সে সাব রেজিষ্ট্রার পদে চাকরি বাগিয়ে নেন। সাব রেজিষ্ট্রার পদে চাকরিতে যোগদানের পর হইতে বনে যান রাতারাতি কোটিপতি। একাধিক ফ্ল্যাট, অসংখ্য প্লট, গ্রামের বাড়িতে কয়েক একর অবৈধ সম্পদের মালিক তিনি। এছাড়া নামে-বেনামে ও তার আত্মীয়-স্বজনের নামে গড়েছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়।

( আরো পড়ুন: দেশের একমাত্র ভূয়া সাব রেজিস্ট্রার দম্পতি মিনতি দাস ও পরিতোষ দাস # www.ajkerpaperbd.com)
রাজধানী উত্তরায় ১২নং সেক্টরে ১৩নং রোডে ৫ কাঠা জায়গার উপরে ৬ষ্ঠ তলা আলিসান বাড়ি নির্মাণ করেছেন কয়েক কোটি টাকা খরচ করে। এছাড়াও তাঁর গ্রামের বাড়ী কুড়িগ্রামে ২য় তলা ডুপ্লেক্স বাড়ী করেছেন কোটি টাকা খরচ করে। নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকা সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন ভূয়া সাব রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি। ” দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম ” তদন্তে নামলে তাঁর অঢেল অবৈধ সম্পদের খোঁজ মিলবে নিশ্চিত।
তৎকালীন সময় তাঁর বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয় কিংবা আইজিআর অফিসে আর্থিক দুর্নীতি, শ্রেণি পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করলেও তাঁর কালো টাকার প্রভাবে সেই সকল অভিযোগ আলোর মুখ দেখেনি আজও পর্যন্ত। অভিযোগ রয়েছে কেরানিগঞ্জ মডেল সাব রেজিষ্ট্রার দায়িত্বে থাকাকালীন বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানীর নিকট থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শ্রেণি পরিবর্তন করে দলিল সম্পাদন করতেন। এছাড়াও “মিনিয়াম সিটি হাউজিং কোম্পানীর মালিক তাজুল ইসলাম” এর নিকট হতেও দলিলের শ্রেণি পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে। তার অবৈধ এসব আর্থিক সুবিধা গ্রহণের কারণে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে সরকার।

( চট্টগ্রাম পওর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহিদ এর শতকোটি টাকা লুটপাট # www.ajkerpaperbd.com)
সূত্রে আরোও জানা যায়, লোভনীয় জায়গায় পোস্টিং নেওয়ার জন্য সাবেক আইন মন্ত্রীর রাজনৈতিক এপিএস বাবু ও আইন মন্ত্রণালয়ের কর্তা ব্যক্তিদেরকে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে ২০২২ সালে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে সাব রেজিষ্ট্রার পদে বদলি হয়ে যান তিনি। যোগদানের পর হইতে বেপরোয়া হয়ে দলিলের ধরন বুঝে ঘুষ নির্ধারণ করে থাকেন তিনি। যে সকল দাতা- গ্রহীতা কিংবা দলিল লেখকগণ তার দাবীকৃত ঘুষের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নাল জমি হয়ে যায় ভিটা, আবাসিক অথবা খাস জমির দোহাই দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি স্বীকার হতে হয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলিল লেখকগণ এই প্রতিবেদক কে জানান।
মুজিবনগর সরকারের কথিত কর্মচারী ভূয়া সাব রেজিষ্ট্রার ওসমান গণির চাকরি হতে অবসরে যাওয়ার কথা ছিলো ২৩-০৭-২০২৫ সালে। পরে গোপন সিঁড়িতে কালো টাকা লগ্নি করে ১ বছর চাকরি বর্ধিত করে নিয়েছেন। অথচ এই ১ বছর চাকরি বর্ধিত করণের সুযোগ শুধুমাত্র প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ।
সচেতন মহল এই ভূয়া সাব রেজিস্ট্রারের অবৈধ পন্থায় চাকরি গ্রহণ,বেতন ও অন্যান্য সুবিধা লাভ, চাকরিকালীন অবৈধ পন্থায় অর্জিত ৪শ কোটি টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দ করতে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম, আইন মন্ত্রণালয় ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।।
আপনার মতামত লিখুন :