
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বিআরটিএ মেট্রো সার্কেল -১ এর মালিকানা বদলি শাখা এখন সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে ঘুষ দুর্নীতি ও লুটপাট বাণিজ্যের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আর এই লুটপাট বাণিজ্যের দৃশ্যমান ভূমিকায় রয়েছেন, উচ্চমান সহকারী মনোয়ার হোসেন। আর নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন AD আমিনুল ইসলাম( MVI).
ইতোমধ্যে ঘুষ দুর্নীতির কালোটাকায় এরা গড়ে তুলেছেন নামে বেনামে অবৈধ সম্পদের পাহাড়। BRTA এর মেট্রো সার্কেল -১ মালিকানা সেকশনের ২০৯ নং রুমের সামনে গেলেই দেখা যায় ভীতরে বাইরে বিশাল জটলা। এরমধ্যে অনেক সেবা প্রত্যাশিকে দেখা যায় সেবা না পেয়ে হতাশ বদনে ফিরে যাচ্ছেন। আর যারা মনোয়ার হোসেনের অবৈধ চাহিদা পূরণ করতে পারছেন, তাদের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে তড়িৎ গতিতে। তারা ফিরছেন হাস্যবদনে চাঁদরাতের খুশি নিয়ে। এর আগে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে মালিকানা বদলী শাখার দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হলেও উর্ধতন কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেননি। ফলে মনোয়ার হোসেন রয়েছেন এখনো বহাল তবিয়তে। বরং এই সেকশনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট। ২০৯ নাম্বার রুমের ভীতের বাইরে বিশাল জটলা থাকলেও চোখের পলকে সমাধান হচ্ছে দালাল সিন্ডিকেটদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ফাইল। অভিযোগ রয়েছে সরকারি ফিসের বাইরে দালালরা চাহিদা মোতাবেক টাকা হাতিয়ে নিয়ে ওইসব কাগজপত্রের মাথায় দেন বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন। আর সেসব কাগজের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে মনোয়ার হোসেন পাঠিয়ে দেন পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ( MVI) এর রুমে।
পতিত স্বৈরাচার পলাতক শেখ হাসিনা সরকারের আমলে চাকরি পান মনোয়ার হোসেন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে তিনি বরাবরই দেখাতেন লীগের দাপট। আওয়ামী লীগের প্রভাবে এবং ব্যক্তিগত ক্ষমতার বলয়ে তার কর্মস্থলগুলোতে তিনি গড়ে তুলেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। যা এখনো বহাল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে গোপন মিটিংয়ে মনোয়ার হোসেন প্রায় রাতেই উপস্থিত থাকতেন এবং ক্যাডারদের জন্য লগ্নী করেন মোটা অংকের টাকা।
মালিকানা বদলের ক্ষেত্রে ক্রেতা- বিক্রেতা উভয়ের উপস্থিত থাকাটা বাধ্যতামূলক। তবে সেসব মানেন না মনোয়ার হোসেন। তার চাহিদা মোতাবেক টাকা পেয়ে গেলে সেসব নিয়ম কে পাশ কাটিয়ে তিনি মালিকানা বদল করে দেন খোশমেজাজে। তাছাড়া চোরাই গাড়ীও তিনি ভূয়া এনআইডি ব্যবহার করে গ্রাহকদের হাতে তুলে দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে অসংখ্য গ্রাহকের।
আর উল্লিখিত অসংখ্য অভিযোগের ধারাবাহিকতায় গাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া ভূক্তভোগী উত্তরা ১১ নং সেক্টরের খাইরুল কবির ২৫ শে সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে লিখিত অভিযোগ করেন সড়ক ও জনপথ এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয়ের মাননীয় সচিব বরাবর। তবে সে অভিযোগ রহস্যজনক কারণে আলোর মুখ দেখেনি।
উল্লিখিত অভিযোগকারী খাইরুল কবির এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রয়োজনে আমি হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টেও বিচার চাইবো। তিনি আরও বলেন, মনোয়ার হোসেনের ইমিডিয়েট বস্ ( MVI) তার সমস্ত কূকর্ম ধামাচাপা দেওয়ায় বারবার বিভাগীয় শাস্তি থেকে মনোয়ার হোসেন পার পেয়ে যাচ্ছেন।
খাইরুল কবির আরও বলেন, মালিকানা বদলি শাখার মনোয়ার হেসেনকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে তার ঢাকার ফ্লাট, বেনামি ব্যবসা এবং ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার পূর্ব শিবপুরে তার বিপুল পরিমাণ জমি ও আলিশান বাড়ি, মাছের ঘের এবং খামার এখনই জব্দ না করলে এদের দৌরাত্ম্য আরো বৃদ্ধি পাবে। এতে বিআরটিএর চেয়ারম্যান মহোদয়সহ ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়বে।
( চলবে)
আগামীকাল আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের সাথেই থাকুন চোখ রাখুন প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে।।
আপনার মতামত লিখুন :