
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝালকাঠি জেলা সদরের পূর্ব কাঠপট্টি এলাকায় বাসিন্দা মো. শামিম আহমেদকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্যাতনের নানা অভিযোগ নিয়ে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৈত্রিকভাবে তামাকজাত পণ্য বা জর্দা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকায় এলাকায় তিনি “জর্দা শামিম” নামে পরিচিত। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে তিনি অবৈধ অস্ত্র বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ২০০৩ সালের ১৫ এপ্রিল বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট থানার পুলিশ দুটি বিদেশি শটগান, গোলাবারুদ এবং রাইফেলের গুলি উদ্ধার করে শামিম আহমেদসহ কয়েকজনকে আটক করে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ রয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিরা বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেলেও শামিম আহমেদ আওয়ামীলীগের দাপট খাটিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই মামলা থেকে অব্যাহতি নেয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার কথা স্থানীয়দের ভাষ্যে উঠে এসেছে।
২০০৪ সালে র্যাব গঠনের পর তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান বলে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে ধর্ম পরিবর্তন করে নিজের নাম মানিক বিশ্বাস পরিচয়ে ভারতে আত্মগোপন করেন।
সেখানে তিনি দীর্ঘদিন অবস্থান করেন এবং পরে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন। কথিত আছে, ভারতে অবস্থানকালে তিনি কলকাতার সল্টলেক এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে পরিবারসহ বসবাস করেছিলেন।
২০১০ সালে দেশে ফেরার পর তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় নতুন করে আধিপত্য দাপটে বিভিন্ন অপকর্ম করেন। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঝালকাঠি শহরের পূর্ব কাঠপট্টি এলাকায় তার নিজ বাড়িতে একটি কথিত “টর্চার সেল” রয়েছে, যেখানে বিরোধীদের আটক রেখে অমানবিক বর্বরোচিত ঘৃণিত নির্যাতন করা হয়।
একদিকে আওয়ামী লীগের দাপট অপরদিকে অস্ত্র- তামাক ও কালো বাজারির অবৈধ টাকার ক্ষমতায় সেখানকার সাধারণ মানুষ অসহায়।
তার ভয়ে নিরাপত্তার কারণে অনেক স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে কয়েকজন নারী ও পুরুষ শ্রমিককে আটকে রেখে মারধরের দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। ভিডিওতে দুই জন পুরুষকে খুটির সাথে হাত-পা বেঁধে একেবারে বিবস্ত্র করে মারধর করা এবং একজন নারীকে লাঞ্ছিত করার দৃশ্য রয়েছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ঘটনার সঙ্গে মুল আসামি শামীম আহম্মেদ এর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। এবং বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরাও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে শামিম আহমেদ সহ অন্যান্য ভাইদের পাশাপাশি তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা রংপুরের পাগলাপীর-জলঢাকা সড়ক এলাকায় রয়েছে। সেই কারখানার ম্যানেজার জাহাঙ্গীর ও তাদের লোকজন নিয়ে
অন্যান্য ভাইদের কারখানা নিজ দখলে নেয়ার হুকুম দিয়েছেন শামীম
আহমেদ। এমন অভিযোগ তুলে অন্যান্য ভাইদের কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রতিবেদককে জানান, শামীম আহম্মেদ এর সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও বেপরোয়া চলাফেরায় পারিবারিক ভাবে শামীমকে অংশ বুঝায় দিয়ে আলাদা করে দেন অপর ৩ ভাই।
এতে সে আরো বেপরোয়া হয়। এবং ভাই ভাতিজাদের প্রাণ নাশের হুমকি সহ তাদের সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শামিম আহমেদ বা তার ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আপনার মতামত লিখুন :