প্লেনে করে অফিসে আসেন সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদির।। তার বিলাসী জীবনের রসদ জোগায় ৩ অবৈধ স্টাফ ও হারিছ- আওলাদ


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ৬:৫২ AM / ০
প্লেনে করে অফিসে আসেন সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদির।। তার বিলাসী জীবনের রসদ জোগায় ৩ অবৈধ স্টাফ ও হারিছ- আওলাদ

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, ঢাকা:

ঢাকা রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সে মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস বহু আগে থেকেই রয়েছে আলোচনা সমালোচনায়৷ বিশেষ করে ঘুষ দুর্নীতির বরপুত্র সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির এই অফিসে যোগদানের পর থেকেই ঘুষ দুর্নীতি বেড়েছে কয়েকগুণ। সাব রেজিস্ট্রারের বিলাসবহুল জীবনযাপন ও প্রতি বৃহস্পতিবার প্লেনে ঢাকা টু সিলেট আর সিলেট টু ঢাকার টাকা যোগাড় করা হচ্ছে ভুক্তভোগীদের পকেট কেটে।

অন্তবর্তি সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল কে ২ কোটি ঘুষ দিয়ে তিনি মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ঢুকে ঘুষ দুর্নীতি ও লুটপাট বাণিজ্যের দোকান খুলে বসেছেন। আর তাঁকে সার্বক্ষণিক সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছে সহকারী হারিছ, নকলনবিশ আওলাদ হোসেন এবং নিয়োগপত্র ছাড়াই এই অফিসের আরো চার রত্ন। এই ৪ রত্ন হলো কালেকশন বস্ আওলাদের ভাই কথিত উমেদার আকিব হোসেন, মোস্তফা কামাল, ইমরান হোসেন ও আইনাল হোসেন।

এতগুলো মানুষ অবৈধভাবে আওলাদ হোসেন ও হারিছের ব্যক্তিগত প্রভাবে নিয়োগপত্র বিহীন চাকরি করলেও সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির আজপর্যন্ত এদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি। তিনি ডুবে আছেন অবৈধ টাকা হাতানোর একমাত্র নেশায়।

রাজধানীর মহামূল্যবান জমির রেকর্ডপত্র মোস্তফা কামাল ও ইমরান হোসেন যখন-তখন রেকর্ড রুমের তালাচাবি খুলে হাতড়াতে থাকে। এদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই গোপনীয় রেকর্ডের তথ্য পাচার, ওভার রাইটিং ও এনআইডি পরিবর্তন করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অফিসের চাবি ও রেকর্ড রুমের চাবি থাকবে অফিস সহকারীর কাছে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড রুমের কাজকর্ম সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরের নির্দেশে মোস্তফা কামাল ও ইমরান হোসেন কে দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। নিয়োগপত্র বিহীন এসব উটকো লোকের কাছে চাবি থাকাই গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের গোপনীয়তা হরহামেশাই হুমকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের।।

মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে প্রতি মাসে ৩ কোটি টাকা করে হাতানোর মিশনে ভীষণ ব্যস্ত BRSA’ র নেতাদের বাইপাস করে সরাসরি আইন উপদেষ্টাকে উপঢৌকন দিয়ে মোহাম্মদপুরে ঢুকে পড়া আঃ কাদির।

আর তাই দলিল প্রতি ৫% থেকে ১০% হারে টাকা বুঝে নিয়ে তিনি দলিলে স্বাক্ষর করেন। তাঁর নির্দেশ মোতাবেক টার্গেটের টাকা হারিছ, আওলাদ, আকিব, মোস্তফা ও ইমরানরা যে কেউ হাতানোর পর দলিলের মাথায় দেয় বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন। সেসব দলিল সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির স্বাক্ষর করেন খোশমেজাজে, উৎফুল্লচিত্তে। আর যেসব দলিল ওই বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন না থাকে সেগুলো রাগান্বিতভাবে বা দলিলে সমস্যা আছে এমন কৃত্রিম ভাবগাম্ভীর্যে দূরে ঠেলে দেন। আর যেসকল জমি দাতা গ্রহীতা মুখের উপর বলে ফেলেন সরকারী ফিস ছাড়া একটি টাকাও অতিরিক্ত দিবেন না– তাহলে সেসব ভুক্তভোগীদের ঘুরতে হয় মাসের পর মাস। আর কারণ হিসেবে মনগড়া হাজারো সমস্যা উত্থাপন করেন কথিত ক্যাশিয়ার গং। আবার সাব রেজিস্ট্রারের টার্গেট মোতাবেক নজরানা দিতে পারলে হাজারো সমস্যাযুক্ত এসব দলিল ১৫ মিনিটের মধ্যেই নিষ্কণ্টক হয়ে রেজিষ্ট্রেশন হয়ে যায়।।

এভাবে সপ্তার ৫ কর্মদিবসে অবৈধ পন্থায় আদায় করা কালেকশনের গরম টাকা সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদিরের ফার্মগেটের বাসায় প্রতি বুধবার রাতে পৌঁছে যায়।

এসব অবৈধ টাকা প্রতি বুধবার সাব রেজিস্ট্রার এর ফার্মগেটের বাসায় বিশেষ কৌশলে বাজারের থলিতে ভরে উপরে শাকপাতা দিয়ে ঢেকে নাটকীয় কায়দায় পৌঁছে দেয় নিয়োগপত্র বিহীন কথিত স্টাফ ইউসুফ হাওলাদার।

দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম যদি ছদ্মবেশে প্রতি বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরের ফার্মগেটের বাসার আশেপাশে অবস্থান নেয় তাহলে ঘুষ দুর্নীতির অবৈধ টাকার ব্যাগসহ হাতেনাতে পাকড়াও করতে পারবে।।

( আগামীকাল পড়ুন সাব রেজিস্ট্রার ও তার কথিত স্টাফদের অবৈধ সম্পদের ফিরিস্তিসহ বিস্তারিত।)