মাদকসহ কারবারিকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কার ঘোষণা “শতদল ক্লাবের” টাকায় ইয়াবা মিললেও দেখা মেলে না কারবারির


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ৩:২৯ PM / ০
মাদকসহ কারবারিকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কার ঘোষণা “শতদল ক্লাবের” টাকায় ইয়াবা মিললেও দেখা মেলে না কারবারির

 

নিজস্ব প্রতিনিধি কোটচাঁদপুর,,

এনালগ পেরিয়ে ডিজিটাল পেরিয়ে স্মার্ট যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তন এসেছে মাদক কারবারিতেও অভিনব কৌশল অবলম্বন করে চলছে মাদকের কারবার। কোনভাবেই বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। চায়ের দোকানে পাওয়া যায় মাদক।

কোটচাঁদপুর কে মাদক মুক্ত করতে পৌর এলাকার বাজেবামনদাহ ৭ নাম্বার ওয়াডে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে দুর্বর প্রতিরোধ। ২৬ বছরের পুরাতন স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন মাদক বিরোধী সংগ্রামের প্রতীক “শতদল ক্লাবের” সদস্য যুবক,তরুণ ও কিশোরা একত্রিত হয়ে গর্জন দিতে শুরু করেছে। ভ্যানে করে শুরু হয়েছে মাদক বিরোধী প্রচার মাদকসহ কারবারি ও সেবিকে ধরিয়ে দিতে পারলে ২ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে নতুন রূপে যাত্রা শুরু আগামী শুক্রবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মাদক,সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।

দেখা মেলে না মাদক কারবারির বিকাশ নগদে হয় লেনদেন মাদক মেলে রাস্তার পাশে, ফাঁকা জায়গায়, শহরের চিপায় চাপায় গলিতে।

অভিযান অব্যাহত আছে মাদকসহ কারবারি ও সেবিদের আটকের পর মাদক মামলা রুজু করে পাঠানো হয় কারাগারে সেখানে কিছুদিন থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে আবারো জড়িয়ে পড়েন মাদক কারবারিতে হাতে গোনা দুই এক জন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে। মাদকের ব্যাপারে কোন ছাড় নেই বললেন মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ।

নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে বিগত সময় যারা মাদকের কারবার করতো তাদের অনেকেরই এখন আর মাদকের সাথে সম্পৃক্ততা নেই। বর্তমানে তরুণ,কিশোর,প্রশাসনের এক শ্রেণীর অষাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, কথিত সাংবাদিক, চিহ্নিত সন্ত্রাসী দুষ্কৃতিকারীরা জড়িত। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করে কারবার।

চাকরি করেন বেসরকারি একটি ঔষধ কোম্পানিতে। বাড়ি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দি উপজেলায় চাকরির সুবাদে থাকেন কোটচাঁদপুরে। প্যান্ট শার্ট পরা স্মার্ট একটা যুবক খন্দকার মোশারফ হোসেন কলেজে প্রাচীর সংলগ্ন রেল লাইনের পাশ দিয়ে হাটাহাটি করছে আর বারবার হাতে থাকা মুঠোফোনে কাকে যেন কল করার জন্য ট্রাই করছে কিন্তু কল না ঢোকায় মনে মনে কি যেন বিড়বিড় করে বলছে বেশ অস্বস্তি ও হতাশ বোধ করছেন তিনি। প্রতিবেদকের বাড়ির কিছুটা দূরেই রেললাইন লাইনের পাশেই তার গেমা ঘাসের জমি।

শুক্রবার দুপুরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে হঠাৎ অপরিচিত যুবকের হাঁটাহাঁটি চোখে পড়ে। মনের ভিতরে কৌতুহল জাগল এই ভর দুপুরে রেললাইনে টগবগে রৌদের ভিতরে হাঁটাহাঁটি করছে রোদে গায়ের শার্ট ঘেমে ভিজে গেছে ছাত্র সে হাঁটাহাঁটি বন্ধ করছে না। ঘটনা কি শেষ দেখার জন্য বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। কিছুই দেখতে পেলাম না ছেলেটা শুধু একবার হেঁটে সামনের দিকে আবার পিছনের দিকে পায়চারি করছে আর ফোন ট্রাই করছে। হঠাৎ একটু জোরেই বলে উঠলো স্থানিয় ছেলে না আমি তাই টাকাটা খেয়ে দিলি। এতে আমার কিছুই হবে না তবে বন্ধুদের কাছে একটু ছোট হয়ে যাব অনেক আশা নিয়ে তারা আমার কাছে এসেছে। কথাটা শুনতে পেয়ে ইশারায় ডাক দিলাম কাছে আসার জন্য আসার পরে জানতে চাইলাম নাম, কি করেন, বাড়ি এবং দুপুরের রোদে এখানে কি করছে। ছদ্মনাম (মফিজ) কি করেন বাড়ির কথা বললেও এখানে কি করছেন বলতে ইতস্ততাবোধ করছেন। মুখটা মলিন হতাশাগ্রস্ত দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। আমিও নাছড় বান্দা বাড়ি এত দূরে তাহলে এখানে কি করছে অনেক জোরাজোরির পর এক পর্যায়ে বললেন বাড়ির এলাকা থেকে বন্ধু এসেছে তাই একটু আনন্দ করার জন্য নাম জানিনা মুখ চেনা একজনের কাছে ইয়াবা কেনার জন্য টাকা দিয়েছে সে বিক্রি করে।টাকা নিয়ে এনে দিচ্ছি বলে আমাকে এখানে দাঁড় করে রেখে গেছে ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও ফিরে আসছে না তার মুঠোফোনটা বন্ধ।

কত টাকা দিয়েছেন উত্তরে বলল ৩২ শো টাকা আমি রেগুলার খাইনা মাঝেমধ্যে শখ করে খাই। এর আগেও নিয়েছি কিন্তু এমনটা করিনি আজ কেন এমন করলো বুঝতে পারছি না। আগে যখন ইয়াবা নিয়েছি হাতে হাতে দেয়নি টাকা দেওয়ার কিছু সময় পরে ফোন করে অথবা ভয়েজে বলে দিয়েছে কোথায় রেখেছে। সেখান থেকে নিয়ে নিতে। নাম বলতে না পারায় চেনা গেলো না। তবে তার কাছ থেকে ফোন নম্বর নিয়ে ডায়াল করলে বললো এই মুহুর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে গুগলের টু কলারে লেখা এলো (ক্যাম্প বাবা)।

রেললাইনের উপর বসে ছাগল খাচ্ছিলো আর আমাদের কথা গুলো শুনেছেন ৫৫ বছর বয়সী (ছদ্মনাম) ছকিনা বেগম তিনি আমাদের উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন তোদের কথা আমি সব শুনছি। তুরা যা বলচিস এই সবের নাম গন্ধ আগে শুনিনি এই বয়সে এসে এই সবের নাম শুনি আমাগের ক্যাম্প পাড়ার ও রুদ্রপুরিরি ৫-৬ জন নাকি “বাবা” বিক্রি করে। তাদের নাম কি-? জানতে চাইলে তিনি বলেন তাগের নাম বলি আর তুই সাংবাদিক পেপারে লিখে দে আর ওরা এসে আমার গলা টিপে মেরে ফেলুক ওরা আমলিকির সময় মস্তানি করে খেতে। দামি দামি মোটরসাইকেল নিয়ে কিন্তি আসে। এখানে ওই কলেজের সামনে রেলগেটে এসে ফোন করে আর এসে দিয়ে যায়। কেন তুই শুনিস নি ওই য়ে ওই বাড়ির জনির ঝিনেদারতে এসে ডিপিতি ধরে নিয়ে গিয়েছে। সবাই বলছে যারা ধরিয়ে দিয়েছে তাগের বাড়ি বড়োবাওন্দায় মস্তানী করে। উরাও নাকি এই বাবা বিক্রি করে।

সে সময় রেললাইনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন পৌর এলাকার সলেমান পুর গ্রামের ফল ব্যবসায়ী তার আম বাগান দেখতে। প্রতিবেদককে দেখে বলে উঠলেন এইতো সাংবাদিক পেয়েছি অনেকদিন ধরে মনে মনে খুঁজছি। কি কারণে আমাকে খুঁজছেন জানতে চাইতেই বলে উঠলেন আর বাবু কইয়ো না খুব বিপদে আছি। টেনশনে আছি ছেলেকে নিয়ে গতাই মিশে নেশা মেশা করা শিখে না ফেলে। ১৪-১৫ বছরের ছোট ছোট ছেলেপিলে যেভাবে নেশা করে বেড়াচ্ছে তাতে কি আর বলবো। পাইলট হাই ইস্কুল মাঠ,সলেমানপুর পাল পাড়া, রথখোলা স্কুল, দাস পাড়া, জাবড়ে খাতা, তেঁতুল তলা পাড়া,সরকারি পুকুর পাড়া, চৌগাছা স্টান্ড মোড়ে মোড়ে বিক্রি হচ্ছে এসব। সারারাত যেটা ছোট ছোট ছেলে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়াই এরা খায় আর বিক্রি করে। চোখে দেখিনি ইয়াবা না বাবা, ফেন্সিডিল নাকি যখন পাওয়া যায় না মেলা দাম তাই কি যেন সিরাপ আসছে সেই তা খাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন কোটচাঁদপুরে একসময় ফেন্সিডিল,গাঁজা, হিরোইন স্থায়ী মাদকের স্পট ছিল এখন আর নেই। আছে গাঁজা ও চোলাই মদের স্পট ভ্রাম্যমাণ ভাবে ফেরি করে বিক্রি করে বেড়াচ্ছে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের বিপরীত নতুন মাদক
WIN CEREX COUGH SYRUP। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের মোড়ে মোড়ে বিক্রি হয় এই মাদক যেমন বলুহর স্ট্যান্ড, ফুলবাড়ী রেলগেট, কলেজ রেলগেট কলোনিপাড়া, রুদ্রপুর, বড় বামনদা, কলেজ স্টান্ট ঋষিপাড়া ও কারিগর পাড়া, পোস্ট অফিস মোড়, মডেল স্কুল, গাবতলা পাড়া, মেইন বাজার পুরাতন কলেজ হোস্টেল, কালীবাড়ি মোড়, হাসপাতাল, বেনেপাড়া এলাকায় পাওয়া যায় মাদক।

এখন এই মাদক কে বিক্রি করছে তার দেখাও পাওয়া যায় না। মুঠো ফেলে কথা বলে বিকাশ বা নগদ নম্বরে টাকা দিলে রাস্তার পশে,ফাঁক জায়গায় ফেলে রাখে। সেখান থেকে নিয়ে আসে মাদক সেবিরা। আবার অনেক টাকা নিয়ে লাপাত্তা হবে যায় অনেক মাদক কারবারি। যারা কিনতে টাকা দেয় তারা আসলে কি কিনতে টাকা দিয়েছে সেটা কারো বলতেও পারে না সইতেও পারে না।

মাদক কারবারিদের জামিনের বিষয়
এ্যাডঃ মো,ইমরান সিদিকী বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে জামিন পাওয়ার অধিকার সবার আছে। আইন সবার জন্য সমান তবে মাদক ব্যবসায়ীদের সব সময় সাজারা আওতাই আনা সম্ভব হয় না বিভিন্ন কারণে আলামত, সাক্ষী দুর্বল,পুলিশ আসামি বিরুদ্ধে ফাইনাল রিপোর্ট দেয়ার সময় গড়মিল সহ বিভিন্ন করেন।

কোটচাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো,আসাদউজ্জামান বলেন, আসলে মাদক একটা সামাজিক ব্যাধি সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে না তুলতে পারলে এটা বন্ধ করা সম্ভব। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান মাদকের বিষয় কোন আপোষ নেই সে যেই হোক। মডেল থানা যোগদানের পর থেকে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকসহ আটক করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদক মুক্ত দেশ গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর।