
অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৬ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস নিয়ে উঠেছে গুরুতর কিছু অভিযোগ। অফিস সহায়ক রিনা রানী দেবনাথের বিরুদ্ধে ঘুষ আদায়, নামজারি বাণিজ্য, সরকারি নথি গোপন রাখা, অতিরিক্ত টাকা আদায় এমনকি নথি জালিয়াতির মতো অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
১১ই আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রফিকুল ইসলাম নামের এক সেবাগ্রহীতা। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই অফিসে কর্মরত থাকার সুযোগে রিনা রানী ১৬টি মৌজার সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানির মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করছেন।
অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো, সিএস, এসএ ও আরএস খতিয়ানের মূল ভলিউম বই গোপন রেখে পরে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে তা দেখানো বা সরবরাহ করার অভিযোগ।
এ ছাড়া সরকারি নির্ধারিত নামজারি ফির বদলে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া, ফাইল প্রসেসিংয়ের নামে আরও ১ হাজার টাকা আদায় এবং ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২ হাজার টাকা নিয়ে মাত্র ৫২ টাকার রসিদ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে রিনা রানী দেবনাথ নামের এই আওয়ামীলীগের পেতাত্মার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া নোটিশ জারি, অফিসের গোপনীয় নথি টাকার বিনিময়ে সরবরাহ এবং নিজের স্বামীর মাধ্যমে দলিলসংক্রান্ত কাজ করাতে সেবাগ্রহীতাদের চাপ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে প্রতিনিয়ত।
অভিযোগকারী রফিকুল ইসলামের দাবি, তিনি নিজেও রিনা রানীর কাছে টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিন (১৩বছর) একই জায়গায় থাকার কারণে সাধারণ মানুষ ভূমি অফিসের সেবা নিতে গিয়ে পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সাধারণত ৩ বছর অন্তর সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলির নিয়ম থাকলেও রহস্যজনক কারণে একই চেয়ারে এক যুগ পার করে দিয়েছেন।
তবে রিনা রানী দেবনাথ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, তাঁকে সরানোর উদ্দেশ্যে কতিপয় দলিল লেখক এসব অভিযোগ করছে। অভিযোগকারী রফিকুল ইসলামকে তিনি চেনেন না বলেও দাবি করেন।
অন্যদিকে মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামান জানিয়েছেন, তাঁর কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন তিনি!
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, একজন অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে যদি সরকারি নথি গোপন রাখা, অতিরিক্ত টাকা আদায় কিংবা নামজারি বাণিজ্যের মতো অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষ ভূমি অফিসে সেবা নিতে কতটা নিরাপদ?
ভূমি মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদগুলোর একটি। সেই জমির কাগজপত্র ও নামজারি নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সেটি শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, পুরো ভূমি সেবা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার প্রশ্ন।
তাই অভিযোগ সত্য কি না, সেটি নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসা জরুরি। অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযুক্ত কর্মচারীকেও তা থেকে মুক্তি দেওয়া উচিত। আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
কারণ ভূমি অফিসে একজন সাধারণ মানুষ তার ন্যায্য অধিকার ও সরকারি সেবা নিতে যান, কারও ব্যক্তিগত অনুগ্রহ নিতে নয়,অবৈধ পথে টাকা হাতানোর নেশায় বিষয়টি রিনা রানী দেবনাথ বেমালুম বিস্মৃত হয়েছেন।।
আপনার মতামত লিখুন :