সরকারি সার ও প্রণোদনা বাণিজ্যের অভিযোগ: জীবননগরে কৃষি কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি, দায়সারা তড়িঘড়ি তদন্ত নিয়ে কৃষকদের ক্ষোভ


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১১, ২০২৬, ১:৪০ PM / ০
সরকারি সার ও প্রণোদনা বাণিজ্যের অভিযোগ: জীবননগরে কৃষি কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি, দায়সারা তড়িঘড়ি তদন্ত নিয়ে কৃষকদের ক্ষোভ

​স্টাফ রিপোর্টার:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি সার ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ কৃষকদের বঞ্চিত করে ভুয়া কার্ড ও স্লিপের মাধ্যমে সার বিক্রেতাদের কাছে বাড়তি দামে সার বিক্রির অভিযোগ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

​তবে তদন্ত কমিটি গঠনের পর তড়িঘড়ি করে তদন্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা এবং প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার উপস্থিত হওয়া নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান একই কর্মস্থলে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত আছেন।

দীর্ঘ সময় একই জায়গায় থাকার সুবাদে গত ১৫ বছর তিনি কেডিকে ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি শুকুর সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খায়রুল বাসার শিপলুর অত্যন্ত আস্থাজান ছিলেন। তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের দাপট দেখিয়ে তিনি এলাকায় একের পর এক অনিয়ম চালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সূত্রে জানা যায়, নানা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লেও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় নুরুজ্জামান বারবার পার পেয়ে গেছেন।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, কেডিকে ইউনিয়নের প্রায় ২০টি খুচরা সার দোকানের অনুকূলে নামে-বেনামে বহু ভুয়া সার কার্ড তৈরি করেছেন নুরুজ্জামান।

প্রতি মাসে এসব ভুয়া কার্ড এবং নিজ স্বাক্ষরিত বিশেষ স্লিপের মাধ্যমে তিনি খুচরা বিক্রেতাদের অনুকূলে সার বরাদ্দ দিতেন। বিনিময়ে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত অবৈধ কমিশন হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া সরকারের দেওয়া কৃষি প্রণোদনা বিতরণেও তিনি ব্যাপক জালিয়াতি করেছেন। এর ফলে প্রকৃত চাষীরা সরকারি সহায়তা ও পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হলেও লাভবান হয়েছেন স্থানীয় অসাধু ব্যবসায়ীরা।

​ক্ষোভ প্রকাশ করে কেডিকে ইউনিয়নের ভুক্তভোগী চাষী ইনামুল, ইসরাইল, ইব্রাহিম ও খলিল বলেন, “আমরা মাঠের সার ও প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য অফিসে গেলে এই কৃষি কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। অথচ তিনি আমাদের সরাসরি সার না দিয়ে দোকানদারদের ভুয়া কার্ড ও স্লিপ দিয়ে একবারে ৫ থেকে ১০ বস্তা করে সার তুলে দেন। বিনিময়ে দোকানদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেন।”

​অভিযোগের ব্যাপারে জানতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
​এদিকে তদন্ত শুরু হতেই অভিযুক্ত কর্মকর্তা ইউনিয়নের স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হন বলে অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে সাধারণ চাষীদের মনে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

​বিষয়টি নিয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসার পর তা তাঁদের নজরে এসেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলামের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক ও এলাকার সচেতন মহল। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।