
কামরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া:
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রান্তিক মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকে নির্ধারিত সময়ে স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (CHCP) ও স্বাস্থ্য সহকারীদের অনুপস্থিতির কারণে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ নিতে এসে অনেক রোগীকেই ফিরে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ ও দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করলেও উপজেলার কিছু ক্লিনিকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কোথাও সকাল ১০টা পার হওয়ার পরও ক্লিনিকের তালা খোলে না, আবার কোথাও নির্ধারিত সময়ের আগেই সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোনো কোনো ক্লিনিকে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়মিত পাওয়া যায় না বলেও দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সম্প্রতি উপজেলার কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় নির্ধারিত সময়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকার দৃশ্য দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের ক্লিনিকের সামনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য জ্বর, সর্দি, কাটা-ছেঁড়া কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধের জন্যও তাদের দূর-দূরান্ত থেকে ক্লিনিকে আসতে হয়। কিন্তু এসে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে না পেলে তাদের ফিরে যেতে হয়। দরিদ্র হওয়ায় বেসরকারি চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব নয় বলেও জানান তারা।
‘যা পারেন করেন’
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার শিলক কমিউনিটি ক্লিনিকের CHCP আব্দুল্লাহর অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “যা পারেন করেন।”
তবে তাঁর অনুপস্থিতির নির্দিষ্ট কারণ বা ক্লিনিকে নিয়মিত উপস্থিত থাকার বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‘দূরে হওয়ায় প্রতিদিন উপস্থিত থাকা যায় না’
দক্ষিণ সরফভাটা কমিউনিটি ক্লিনিকের CHCP মোহাম্মদ হাসানের কাছে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্লিনিকটি অনেক দূরে হওয়ায় সেখানে যাতায়াতে বেশি টাকা খরচ হয়। পাশাপাশি ওষুধ সংগ্রহের সময়ও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি বলেন, “এই সি.সি.টা অনেক দূরে। সেখানে যেতে অনেক টাকা গাড়ি ভাড়া লাগে। মেডিসিন নেওয়ার সময়ও অনেক কষ্ট হয়। যার কারণে প্রতিদিন উপস্থিত থাকা যায় না। বৈরী আবহাওয়া থাকলে হাঁটুসমান কাদা হয়, তখন একেবারেই যেতে পারি না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নিজেও চাইতেছি সেখান থেকে চলে আসতে।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিক সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা রয়েছে।
কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বে অবহেলা করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সরকারের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নেওয়া এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। বিশেষ করে দরিদ্র, নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নিয়মিত খোলা রাখা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ দ্রুত অনিয়মের তদন্ত করে রাঙ্গুনিয়ার সব কমিউনিটি ক্লিনিকে নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :