
ক্রমশ: পাল্টে যাচ্ছে সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দৃশ্যপট, বাড়ছে রাজস্ব আহরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
একজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষের হাতের ছোঁয়ায় ক্রমশ: পাল্টে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিস। তাঁর দূরদর্শী চিন্তাচেতনা ও সঠিক দিকনির্দেশনায় কমছে দলিল জট, প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে রাজস্ব আরহণ। কমেছে অনাহূত দালালদের অপ্র্যাশিত উৎপাত, গ্রাহক হয়রানি। এই অফিসটি এখন মাইলফলক স্থাপনের পথে একটু একটু করে অগ্রসর হচ্ছে। আর এই সবকিছু সম্ভব হচ্ছে উচ্চশিক্ষিত ও করিৎকর্মা একজন অফিসার জনাব মোহাম্মদ জাকির হোসেন এর আইনসম্মত কঠোর নির্দেশনা ও অফিস স্টাফদের নিরলস পরিশ্রম এর কারণে।
সরেজমিনে এমনটিই বলেলেন, স্থানীয় সচেতন সমাজের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক নেতা কাজী বিপ্লব।
আজ থেকে ৩৮ বছর আগে প্রয়াত স্বৈরশাসক লে: জে: হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সৃষ্ট অস্থির রাজনৈতিক ডামাডোলের সময় ১৯৮৭ সালের ২৮শে ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মো: জাকির হোসেন।
অদম্য মেধাবী জাকির হোসেন মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকে নজরকাড়া সাফল্যের পর ” বিএসসি(সম্মান) ও এমএসসিতে প্রথমশ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন। এরপর নিরলস পরিশ্রম ও মেধার স্বাক্ষর স্থাপনপূর্বক ৩৫ তম বিসিএস ক্যাডারে স্বসম্মানে নিজ যোগ্যতা প্রমাণ করে টাঙ্গাইল জেলাবাসীর জন্য বিরল সম্মান বয়ে আনেন। বর্তমানে সময়ে টাঙ্গাইল জেলা শহর থেকে মফস্বল ও অজপাড়াগাঁ এবং নিভৃত পল্লীর অসংখ্য শিক্ষার্থীদের কাথে জাকির হোসন এখন “আইডল”।। এসব শিক্ষার্থীরা জাকির হোসেনের মতো উচ্চ শিক্ষিত হয়ে বাংলাদেশ তথা মাতৃভূমিকে আলোয় উদ্ভাসিত করার স্বপ্ন দেখে প্রতিনিয়ত।।

আইন মন্ত্রনালয় ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের লিখিত পরীক্ষায় পাশ করে ২০১৭ সালে তিনি সাব রেজিস্ট্রি পদে মনোনীত হন।
১৬ই আগস্ট ২০১৭ ইং তারিখে প্রথম পদায়ন জামালপুর উপজেলার বকশিগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে।
এরএর পর্যায়ক্রমে লক্ষীপুরের কমলনগর, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের প্রধান কাজ হলো জমি ও সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রি করা। যেমন – ক্রয়-বিক্রয়, হেবা, দান, উইল, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি ইত্যাদি; এর মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা আইনগতভাবে নিশ্চিত করা হয় এবং সরকারি রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়, যা সম্পত্তি সংক্রান্ত লেনদেনের একটি অপরিহার্য অংশ।
দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি:
বিভিন্ন ধরনের দলিলের (যেমন: বিক্রয়, হেবা, দান, উইল, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি, ইত্যাদি) আইনগত যাচাই-বাছাই করে তা রেজিস্ট্রি করা।
মালিকানা হস্তান্তর নিশ্চিতকরণ:
দলিল রেজিস্ট্রি করার মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের আইনি বৈধতা প্রদান করে সাভার অফিস।
রেকর্ড সংরক্ষণ:
রেজিস্ট্রিকৃত সকল দলিলের মূল কপি সংরক্ষণ করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তার সার্টিফাইড কপি সরবরাহ করা হয়।
সার্চ ও তথ্য প্রদান:
জনসাধারনের চাহিদা অনুযায়ী পুরাতন দলিলের তথ্য বা সার্চ রিপোর্ট প্রদান করে এই অফিস।
ভূমি সংক্রান্ত অন্যান্য সেবা:
ভূমি উন্নয়ন কর, নামজারি (কিছু ক্ষেত্রে) এবং অন্যান্য ভূমি সংক্রান্ত আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করে সাভার সাব রেজিস্ট্রার এর কার্য্যালয়।
মূলত: সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সাভার এলাকার ভূমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত সকল আইনি লেনদেনের কেন্দ্রবিন্দু, যা আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধন অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয় সার্বক্ষণিক।

১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন বাংলা বিহার উড়িষ্যার সর্বশেষ স্বাধীন শাসক নবাব সিরাজুদ্দৌলার মৃত্যুর পর ব্রিটিশ সরকার এদেশে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা চালু করে। ও-ই সময় বৃটিশদের আস্থাভাজন জমিদারগণ অবিভক্ত ভারত উপমহাদেশে ভূমির মালিক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। তবে তারা প্রজাচাষীর ভাল-মন্দ, সুখ-দু:খ, সুযোগ সুবিধার দিকে মোটেও তাকাত না। ফলে কৃষকের অবস্থা দিন দিন অত্যন্ত নাজুক হতে থাকে। অনেক চাষী কৃষি কর্ম ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে থাকে। ফলে কৃষি জমি অনাবাদি থাকার উপক্রম হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে কৃষক বিদ্রোহ দেখা দেয়। এসব কারণে ইংরেজদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটে এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় নামে নামে জমি বন্দোবস্ত কার্যক্রম শুরু হয়।
১৮৬৪ সালের দলিল নিবন্ধন আইন (The Registration Act, 1864)-এর মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইন দ্বারা কাঠামোবদ্ধ হয়ে জেলা ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়, যা মূলত জমি ও সম্পত্তির দলিল নিবন্ধনের জন্য। ১৮৭৭ সালে ঢাকায় প্রথম রেজিস্ট্রি অফিস স্থাপন করা হয়েছিল।
১৮৬৪ সালে দ্য রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট প্রণয়নের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা আসে, যা ছিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পথচলার শুরু।
আইনি ভিত্তি: ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইন (The Registration Act, 1908) অনুযায়ী জেলায় রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিস প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়, যা এই প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।
নেত্রকোণা জেলার ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৯৩ সালে ৩৬ নং বেঙ্গল রেগুলেশনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম ঢাকায় রেজিস্ট্রি অফিস স্থাপন করা হয়, যা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এরপরপরই স্থানীয় জমিদারের কাচারি বাড়ীতে শুরু হয় সাভার সাব রেজিস্ট্রি কার্যক্রম।
আপনার মতামত লিখুন :