
সজীব আকবর, অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:::
জ্বী আপনি ঠিকই দেখেছেন নিউজের শিরোনামটাও ঠিক আছে। আমরা সাধারণত জানি সবথেকে বড়ো নক্ষত্র হলো সুর্য। আসলে সূর্যের থেকেও ১ হাজার গুণ বড়ো ২ হাজার গুণ বড়ো নক্ষত্র এই মহাবিশ্বে আছে।। তবে সূর্যের থেকেও বড়ো কয়েক হাজার গুণ বড়ো যে নক্ষত্র তার নাম ইউওয়াই স্কুটি( UY Scuti)। সূর্য যেমন ৩১ লক্ষ পৃথিবীকে তার ছায়াতলে আশ্রয় দিতে পারে,তেমনি ইউওয়াই স্কুুটি এক থেকে দুই হাজার সূর্যকে চোখের পলকে গিলে ফেলতে পারে।।
মদ্য কথা টু নেশন থিউরি বা দ্বিজাতি তথ্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা হিন্দুস্তান পাকিস্তান আমলে আমরা যখন পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হলাম ঠিক তার ৭ বছর পর প্রতিষ্ঠিত হয় এই জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর।। মানে ১৯৫৪ সাল থেকে আজ ২০২৬ টানা ৭২ বছরেও এখনো পর্যন্ত জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরে কখনো এমন চৌকস নৈপুণ্য দেখা যায়নি। আজ থেকে ২৪/২৫ বা ১৮/২০ বছর পূর্বে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের একটি স্বাক্ষর পাওয়ার আশায়, একখণ্ড জমির আশায় যারা টাকা জমা দিয়ে আবেদন করেছিলেন, তারা মারা গেছেন, তাদের বাবা মারা গেছেন এখন তাদের নাতি পুতিরা সেই অমিমাংসিত আবেদনের পিছনে চটি জোড়া নষ্ট করছে।।
তবে আশার কথা এই যে বর্তমান জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতরের মানীনীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব এর নিরলস পরিশ্রমে ঝুলে থাকা হাজার হাজার তামাদী আবেদন আবারো আলোর মুখ দেখছে। অসংখ্য আবেদন নিস্পত্তি হয়েছে, বাদবাকিও সব সমাধান হওয়ার পথে।।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদে আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন দায়িত্বে আসার পাল্টে গেছে জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতরের দৃশ্যপট। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে পিরোজপুর-২ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পিরোজপুরজুড়ে সেই সময় শুরু হয় আনন্দের জোয়ার।
বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর নতুন সরকার ও মন্ত্রিসভা গঠনকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে পিরোজপুর-২ (কাউখালি, ভান্ডারিয়া, নেছারাবাদ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী এই তরুণ সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি উঠেছিল স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে। অনেকেই ভেবেছিলেন পারবে তো ?? তবে তিনি এলেন, দেখলেন এবং স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিলেন কোটি মানুষের হৃদয়।
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলন পরবর্তী নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে মনোনীত প্রার্থী শামিম সাঈদী-কে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেন। তাঁর এই বিজয়কে অবহেলিত পিরোজপুর জনপদের মানুষ তখন থেকেই নতুন সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে দেখে আসছেন গোটা জেলার মানুষ।
সাবেক ছাত্রনেতা ও ব্যবসায়ী সামছুল হক দীপু প্রতিমন্ত্রী সম্পর্কে বলেন, “তাঁর পরিবারে বাবা, মা ও চাচাসহ মোট পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, যা বিরল ঘটনা। তিনি প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় এবং জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় পিরোজপুরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।”
গৃহাযণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বৃহস্পতিবার (৬ই আগস্ট ২০২৬) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে এ পদে পদায়ন করা হয়। এর পূর্বে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মো. ওবায়দুর রহমান ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার আগে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। পরে পঞ্চগড়, বাগেরহাট ও নড়াইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি), নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোনা ও খুলনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বাগেরহাটে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাঠ প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের সমস্যা ও প্রশাসনিক বাস্তবতা সম্পর্কে সমৃদ্ধ জ্ঞান অর্জন করেছেন।
এ ছাড়া তিনি ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (LATC)-এ প্রশিক্ষক এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তাৃর অবদান উল্লেখযোগ্য।
তিনি দেশের প্রশাসনে মেধাস্বত্ব (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) বিষয়ে অন্যতম বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরে (DPDT) প্রায় সাত বছর সহকারী রেজিস্ট্রার ও উপ-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরকে উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে দেশের আইপি ব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মো. ওবায়দুর রহমান।
তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (BIM), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (BIAM), বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (BITAC), বিসিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও বক্তৃতা দেন। এছাড়া ঢাকা চেম্বার (DCCI), এফবিসিসিআই (FBCCI) এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (BAPI)-এর বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালায় তিনি বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
মাগুরা জেলার সন্তান মো. ওবায়দুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। মেধাস্বত্ব, সুশাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, সুইডেন, জাপান, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই পুত্রসন্তানের জনক।
এই মেধাবী মানুষটি খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদানের পর থেকে কমেছে জন হয়রানি, লটারির নামে প্রহসন ও পকেট কাটার বাণিজ্য।
আপনার মতামত লিখুন :