
রাজবাড়ীতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির পর কৌশলে বদলি বাগিয়ে নিয়ে সুনামগঞ্জে এসেও একই লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছেন এনামুল কবির। সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে েতিনি এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির এক অঘোষিত সম্রাট। দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন এবং তাহসিন আহমেদ-এর দীর্ঘ ও নিবিড় অনুসন্ধানে সুনামগঞ্জ কারাগারে বন্দীদের জিম্মি করে এনামুল কবিরের এই বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও গোপন বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজবাড়ীতে যে লুটপাটের মডেল তিনি তৈরি করেছিলেন, সুনামগঞ্জে এসে তা আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে।
ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে এবং বন্দীদের অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করে সরকারি কোষাগারের লক্ষ লক্ষ টাকা সরাসরি এনামুল কবিরের পকেটে ঢুকছে।
কারাগারে একটু স্বস্তিতে ঘুমানোর জায়গা বা ফ্লোরে ভালো একটি ‘বেড’ পেতে হলে বন্দীদের গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের মাসিক ও দৈনিক ভাড়া। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে বন্দীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
এই পুরো অবৈধ বাণিজ্য একা হাতে নিয়ন্ত্রণ করছেন না এনামুল। সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারের প্রধান কারারক্ষীর প্রত্যক্ষ যোগসাজশে তিনি গড়ে তুলেছেন এক দুর্ভেদ্য সিন্ডিকেট।
বন্দীদের অবৈধ সুবিধা প্রদান, স্বজনদের সাথে বেআইনি সাক্ষাৎ এবং ভেতরে নানা নিষিদ্ধ সামগ্রী সরবরাহের বিনিময়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার লেনদেন হচ্ছে এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।
রাজবাড়ী থেকে গুরুতর সব দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে সুনামগঞ্জে বদলি হওয়ার পরও কীভাবে একজন কর্মকর্তা একই কায়দায় এমন প্রকাশ্য লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি এড়িয়ে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট কীভাবে দিনের পর দিন বন্দীদের অধিকার হরণ করছে এবং কারাভ্যন্তরে নিজস্ব রাজত্ব কায়েম করেছে, তা এখন একটি বিরাট প্রশ্ন।
মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় সুশীল সমাজের জোর দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কারা অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যেন অবিলম্বে সুনামগঞ্জ কারাগারে এনামুল কবির ও প্রধান কারারক্ষীর এই গোপন বাণিজ্যের নিরপেক্ষ তদন্ত করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
( এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের সাথেই থাকুন, চোখ রাখুন আমাদের প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে)
আপনার মতামত লিখুন :