কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ দুর্নীতি ও লুটপাট বাণিজ্যের মহানায়ক উপপরিচালক আফজাল হোসেন


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১, ২০২৬, ৪:৫৫ PM / ০
কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ দুর্নীতি ও লুটপাট বাণিজ্যের মহানায়ক উপপরিচালক আফজাল হোসেন

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:

কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ দুর্নীতি ও লুটপাট বাণিজ্যের এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
এই দপ্তরে এসে খালি হাতে সেবা পাওয়ার অধিকার নেই আমজনতার। মোট কথা এখানে ঘুষ ছাড়া মেলেনা সেবা, নড়েনা ফাইল।

কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম মেনে সরাসরি আবেদন করতে গেলেই পড়তে হচ্ছে আফজাল হোসেন ও তাঁর সিন্ডিকেটের রোষানলে। অথচ এই কর্মকর্তার নির্ধারিত দালাল সিন্ডিকেটের হাতে অতিরিক্ত টাকা ধরিয়ে দিলেই মুহূর্তেই উধাও হয়ে যাচ্ছে সব জটিলতা।

অনুসন্ধানে নেমে গ্রাহক সেজে দালালদের সাথে কথা বলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। দালাল চক্রের সদস্যরা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন যে, আফজাল স্যার যোগদানের পর থেকে তাদের কাজের পরিধি এবং সুবিধা দুটোই বেড়েছে। বর্তমানে পাসপোর্টের যেকোনো বড় জটিলতাও তারা ‘১০০% চ্যালেঞ্জ’ নিয়ে সমাধান করতে পারেন। তাছাড়া ৪০/৫০ হাজার অতিরিক্ত টাকা আফজাল হোসেনের টেবিলে পৌঁছাতে পারলেই মিলবে “ভোটার আইডি কার্ড ছাড়াই” বিশেষ পাসপোর্ট সুবিধা।

তাছাড়া গ্রাহকদের কাছ থেকে একেকটি সাধারণ পাসপোর্টের জন্য ৮/১০থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র। আর প্রতিটি নর্মাল ফাইলের বিপরীতে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা ‘অফিস খরচ’ বাবদ প্রতিদিন বিকেলে পৌঁছে দেওয়া হয় উপপরিচালকের টেবিলে। শীর্ষ কর্মকর্তার সাথে এই অলিখিত চুক্তির কারণে দালালের হাত ঘুরে আসা ফাইলগুলো কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই দ্রুত অনুমোদন পেয়ে যায়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, পাসপোর্ট অফিসে অনলাইন আবেদন জমা দেওয়া, ভুল সংশোধন, ছবি তোলার মতো সাধারণ প্রক্রিয়াগুলোকেও ইচ্ছাকৃতভাবে জটিল করে তোলা হয়।

সাধারণ মানুষ সরাসরি গেলে ফাইলে নানা ভুলত্রুটি ধরে ফেরত পাঠানো একটি নিয়মিত কৌশলে পরিণত হয়েছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সাধারণ গ্রাহকরা বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত অর্থ গুনে দালালদের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে সরকারি সেবা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে ও বাইরে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখা এই দালাল চক্র এবং তাদের মদদদাতা আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেমন কমবে না, তেমনি সরকারের ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতে গৃহীত উদ্যোগগুলোও ভেস্তে যাবে।

এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে আফজাল হোসেনের সরকারি নাম্বারে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তার বক্তব্য জানতে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে লিংক পাঠানো হয়।

 

( এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের সাথেই থাকুন, চোখ রাখুন আমাদের প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে। )