
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজবাড়ী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ঘিরে আবারও বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী শাসনামলে নিজেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে কর্মস্থলগুলোতে লীগের ক্ষমতার বলয় সৃষ্টি করে গড়ে তুলেন নিজস্ব সিন্ডিকেট। এভাবে তিনি হয়েছেন শতকোটি টাকার মালিক। নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়।।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি, গোপনে ডিএফপি অনুমোদনহীন অখ্যাত পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞাপন, কাগজপত্রে কাজ দেখিয়ে বিল আত্মসাৎসহ অতিমূল্যে কার্যাদেশ প্রদান, নতুন চলমান প্রকল্পে রিভিশনের মাধ্যমে সরকারি টাকা খরচ দেখিয়ে লুটপাট এবং ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারের বিপুল অর্থ আত্মসাতের আভাস ও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে শতকোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগের তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর নজরেও আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখযোগ্য অনিয়মের মধ্যে অন্যতম অনিয়ম ছিল প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে কোটি কোটি টাকা বেশি ব্যয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারি নির্মাণকাজে সাধারণত দরপত্রে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কম দরে কার্যাদেশ দেওয়ার প্রবণতা থাকে। কিন্তু এখানে উল্টো অতিরিক্ত মূল্যে কার্যাদেশ দেওয়াকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই দরপত্রের আরেকটি প্যাকেজেও প্রাক্কলনের বিপরীতে প্রায় ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি দামে কার্যাদেশ দিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া আরসিআইপি প্রকল্পের সদর উপজেলায় একটি প্রকল্পে ‘ভুয়া প্রাক্কলন’ তৈরি করে অনুমোদন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ওই কাজটি চিন্ময় প্রামাণিক তার এক ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারকে পাইয়ে দেয়।
অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের সার্বিক কাজ অনুসন্ধান করলেই অনিয়মের আসল রহস্য সহজে উদ্ঘাটিত হবে।
অনুসন্ধানে আরও কয়েকটি ছোট ও মাঝারি প্রকল্পে একই ধরনের অনিয়মের খোঁজ পাওয়া গেছে।
একাধিক প্রকল্পে একই ধরনের উচ্চ দর অনুমোদনের ঘটনায় পরিকল্পিত যোগসাজশের ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনিক নজরদারি দুর্বল থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
তাঁদের দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়া, প্রাক্কলন অনুমোদন, কার্যাদেশ প্রদান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের আর্থিক নথিপত্র স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে নিরীক্ষা করা হলে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র সামনে চলে আসবে—এমনটাই মনে করছেন এলজিইডির সংশ্লিষ্টরা।
অভিযুক্ত চিন্ময় প্রামাণিক এর মোবাইল ফোনে বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি ফোনকলটি রিসিভ করেননি। পরে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে নিউজ লিংক পাঠানো হয়।। ( চলবে)
( এ বিষয়ে আরও জানতে আমাদের সাথেই থাকুন, চোখ রাখুন আমাদের প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে )
আপনার মতামত লিখুন :