
মোঃ মামুন অর-রশীদ,ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। উপনির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরদিন শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে ফুলের তোড়া ও মিষ্টি নিয়ে নিজের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান তিনি।
এ সময় দুই নেতার মধ্যে কুশল বিনিময়, কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সম্প্রীতির এক ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সৌহার্দ্য বজায় রাখার এ উদ্যোগ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে।
সাক্ষাৎকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন দলীয় মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে ঠাকুরগাঁওয়ের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
জবাবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনও ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার কাজে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। দুই নেতার এ সৌজন্য সাক্ষাৎ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনে জয়-পরাজয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। তবে নির্বাচনের পর প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং এলাকার উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মানসিকতা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন।
নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।
দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪। বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নতুন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন মির্জা ফয়সল আমীন।
নির্বাচনী মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর বিজয়ী প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় গিয়ে ফুল ও মিষ্টি দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের এ ঘটনা নির্বাচনী উত্তাপের বাইরে নতুন এক রাজনৈতিক বার্তার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্বাচনের সময়কার প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেছনে ফেলে দুই পক্ষের সহযোগিতায় ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
আপনার মতামত লিখুন :