রাজশাহী জেলা কারাগারে সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন ও জেলার আখিরুল ইসলামের মাসিক লুটপাট বাণিজ্য কোটি কোটি টাকা, বন্দি জিম্মিও চলছে মহাসমারোহে


আজকের পেপার প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ২:৫১ PM / ০
রাজশাহী জেলা কারাগারে সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন ও জেলার আখিরুল ইসলামের মাসিক লুটপাট বাণিজ্য কোটি কোটি টাকা, বন্দি জিম্মিও চলছে মহাসমারোহে

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:

সংশোধনাগার হওয়ার কথা থাকলেও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার এখন অসাধু কর্মকর্তাদের কোটি টাকার অবৈধ আয়ের উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। জেল সুপার আল মামুন এবং জেলার আখিরুল ইসলাম-এর নিয়ন্ত্রণে কারাগারজুড়ে গড়ে উঠেছে এক বিশাল ঘুষ ও দুর্নীতির শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

কারাগারের বন্দিদের খাদ্য সরবরাহ, সিট/বেড বাণিজ্য, ক্যান্টিন সিন্ডিকেট,পিসি কালেকশনে ও ডিপোজিটে গড়মিল, বন্দি সাক্ষাৎ এবং কারাগার হাসপাতালকে ঘিরেও প্রতি মাসে তাঁদের পকেটে ঢুকছে কোটি কোটি। নামে বেনামে এই দুই কর্মকর্তা গড়ে তুলেছে অঢেল অবৈধ সম্পদের পাহাড়।
সরকারি পদে থেকে সাবেক বিতর্কিত ঠিকাদার ও অসাধু বন্দি সরবরাহকারীদের সাথে গোপন আঁতাত করে তাঁরা চালাচ্ছেন এই নজিরবিহীন দুর্নীতি। এর বদৌলতে রাজকীয় বিলাসী জীবনযাপন, দামি গাড়ি ও ঢাকায় বেনামে একাধিক প্লট, ফ্লাট, আলিশান প্রসাদের গল্প এখন মানুষের মুখে মুখে। তবে রহস্যজনক কারণে দুদকও নিশ্চুপ।

কারাগারের এই চরম মানবিক বিপর্যয় ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনোয়ারুল কবির-এর জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ ও আশু হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করছেন।

খাবারের ডাবল দাম থেকে ‘বেড ভাড়া’: রাজশাহী কারাগারে দুর্নীতির ৫ খাত

অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে রাজশাহী জেলা কারাগারে মামুন-আখিরুল সিন্ডিকেটের সুনির্দিষ্ট ঘুষ কালেকশনের ভয়াবহ তথ্য:

১. ক্যান্টিনের খাবারে ডাবল দাম:

সাধারণ বন্দিদের সরকারের দেওয়া বরাদ্দকৃত খাবার নিম্নমানের দিয়ে বাধ্য করা হয় কারাগারের অভ্যন্তরের ক্যান্টিন থেকে চড়া দামে খাবার কিনতে। বাজারমূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ ও তিনগুণ দামে বন্দিদের কাছে পচা-বাসি খাবার বিক্রি করে মাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্র।

২. বেড ও সিট বাণিজ্য:

সাধারণ ওয়ার্ডে গাদাগাদি করে থাকা বন্দিদের একটু আরামে থাকা বা ভালো বেডের (সিট) ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে জেলার আখিরুলের মাধ্যমে প্রতি বন্দির কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।

৩. হাসপাতালের গোপন বাণিজ্য:

সুস্থ প্রভাবশালী বন্দিদের টাকার বিনিময়ে মাসের পর মাসে হসপিটালে এডমিটের আরাম-আয়েশে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। আর হাসপাতালের বেডগুলোতে চলে ভিআইপি বন্দিদের রাজকীয় জীবনযাপন, পানীয়জলের ব্যবস্থা সহ ননস্টপ জুয়া খেলার মহোৎসব। অন্যদিকে প্রকৃত অসুস্থ বন্দিরা ঘুষ না দিলে চিকিৎসা পান না এখানে।

৪. সাবেক ঠিকাদারের সাথে মেকি বিল সিণ্ডিকেট:

বন্দিদের জন্য খাদ্যদ্রব্য সরবরাহে সাবেক বিতর্কিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে গোপন পার্সেন্টেজে ভুয়া বিল ভাউচার পাস করে সরকারি অর্থ তছরুপ করা হচ্ছে এখানকার সারাবছরের রুটিন ওয়ার্ক।

৫. পিসি (পিসি/পকেট মানি) ও সাক্ষাৎ বাণিজ্য:

বন্দিদের সাথে আত্মীয়-স্বজনের সাক্ষাতের সময় প্রতিটি টেবিল ও কাউন্টারে দিতে হয় নির্দিষ্ট পরিমাণের ঘুষ।

অবৈধ কালেকশনে মাসে কর্মকর্তাদের চলছে রাজকীয় জীবন!
জেল সুপার আল মামুন ও জেলার আখিরুল ইসলাম কারাবিধি ও আইনি তোয়াক্কা না করে রাজশাহী কারাগারকে বানিয়ে ফেলেছেন তাঁদের নিজস্ব ‘ক্যাশ কাউন্টার’। প্রতি মাসে গড়ে কয়েক কোটি টাকা কালেকশন করে তা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করেন তাঁরা। নাম মাত্র কিছু টাকা সেন্ট্রি, গার্ড ও জমাদারদের দিয়ে বাকি ৯০ শতাংশ টাকায় তারা আত্মসাৎ করেন।

সরকারি স্কেলের বেতনের সাথে এই দুই কর্মকর্তার বর্তমান চালচলন, বিলাসবহুল গাড়ি ও আভিজাত্যপূর্ণ জীবনযাত্রার নুন্যতম সম্পর্কও নেই। নামে-বেনামে ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ ও বড় বড় শহরের আবাসন প্রকল্পে তাঁদের গোপন বিনিয়োগের তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক এটা বলা যায় যে,
একটি গণতান্ত্রিক ও সুশাসিত রাষ্ট্রে সংশোধনাগারের নামে এই মানবতাহীন বন্দি নির্যাতন ও লুণ্ঠন কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেন এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ যেন অবিলম্বে বিশেষ তদন্ত টিম পাঠিয়ে রাজশাহী কারাগারের যাবতীয় নথি ও কেনাকাটা ভেরিফাই করেন।
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) আনোয়ারুল কবির যেন বিতর্কিত জেল সুপার আল মামুন ও জেলার আখিরুল ইসলানকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করে তাঁদের অনৈতিক সম্পদের নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেন, এটাই ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি।।।

 

( এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের সাথেই থাকুন, চোখ রাখুন আমাদের প্রিন্ট ও অনলাইন/ ডিজিটাল ভার্সনে)))