
আনিসুর রহমান মোল্লা, নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় ম্যাগাজিন নির্ভীক সংবাদ এর সম্পাদক এম. একরামুল হক আসাদ এর বিরুদ্ধে ৩৮লাখ ৭৫ হাজার- টাকা বেতন বকেয়ার অভিযোগে দায়ের করা সি.আর মামলা নং ১১৩৩/২০২৬ নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মামলার বাদী সহ-সম্পাদক নার্গিস চৌধুরী লাভলী। তবে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
বাংলাদেশে সংবাদপত্র কর্মীদের বেতন-ভাতা, বকেয়া, চাকরিচ্যুতি — এই সবকিছু দেখার সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বে আছে “”ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)”” ও “”বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)””।
ডিইউজে-বিএফইউজে সবসময় তাদের সদস্যদের বকেয়া বেতন আদায়ের জন্য মালিকপক্ষের সাথে দরবার করে, শ্রম আদালতে মামলা করতে আইনি সহায়তা দেয়, অনুপ্রেরণা যোগায়, এমনকি চাকরি না থাকলে অন্য পত্রিকায় চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়। ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নেও তাঁরাই সামনে থাকে।

★ওই মহিলা ( সহ সম্পাদক পরিচয়ধারী) কেন ডিইউজে বা বিএফইউজে-তে গেলেন না? একজন সাংবাদিক হিসেবে তাঁর প্রথম যাওয়ার কথা ছিল ইউনিয়নে। ইউনিয়নে অভিযোগ দিলে ইউনিয়ন তদন্ত করে মালিকপক্ষকে চাপ দিতো। তিনি একা একা সরাসরি ফৌজদারি আদালতে চলে গেলেন কেন? হেতু কি????
১৯৩ মাস চাকরি করলে অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে প্রেস, কম্পিউটার অপারেটর, অন্য রিপোর্টার — সবাই সাক্ষী থাকার কথা। কিন্তু মামলায় মাত্র একজন সাক্ষী — খ.ম. আল আমিন বাকী, যিনি নিজেও অন্য পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার। অফিসের ভেতরের কোনো কর্মচারীকে সাক্ষী করা হয়নি। এটা কি স্বাভাবিক? ফলে এই মামলা নিয়ে শুরু হয়েছে ধুম্রজাল।

বাংলাদেশে কোনো সোশ্যাল মিডিয়া বা পত্রিকা অফিসে ১ মাসের বেতন বকেয়া থাকলেও ফেসবুকে স্ট্যাটাস, প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন হয়। সেখানে ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বকেয়া নিয়ে কোনো মানববন্ধন, কোনো ফেসবুক পোস্ট, কোনো প্রেস ক্লাবে অভিযোগের রেকর্ড নেই। তাহলে হঠাৎ ১৬ বছর পর মামলা কেন ?? তাহলে কি অভিপ্রায়ে, কার প্ররোচনায় তিনি আদালতমূখী হলেন এ প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে সংবাদকর্মী ও গণমাধ্যম হাউজগুলোতে।
এই মামলাটি আইনগতভাবেও দুর্বল।
শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ১২৪ ও ১৩২ অনুযায়ী, বেতনের দাবি শ্রম আদালতে করতে হয়, ফৌজদারি আদালতে নয়। আদালত চাইলে CrPC ২০২ ধারায় মামলাটি খারিজ করে দিতে পারেন।
★তামাদি আইন ১৯০৮ এর ১ ধারা অনুযায়ী, ৩ বছরের পুরানো বেতনের দাবি তামাদি হয়ে যায়। ২০১০ সালের দাবি ২০২৬ সালে আনা আইনত গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি পরিকল্পিত ক্রাইম।।
– এই ধরনের মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে সম্পাদক চাইলে দণ্ডবিধি ২১১ ধারায় মিথ্যা মামলা এবং ৪৯৯/৫০০ ধারায় মানহানির পাল্টা মামলা দায়ের করতে পারেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ডিইউজে নেতা গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের কাছে এই মহিলা
( কথিত সহ সম্পাদক) কখনো বকেয়া বেতনের জন্য আসেননি। আমাদের কাজই হলো সদস্যদের বকেয়া উঠিয়ে দেওয়া। ইউনিয়নকে না জানিয়ে একা মামলা করা মানে অন্য কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ বা উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
একটি পত্রিকা অফিসে এত টাকা বকেয়া থাকা অবিশ্বাস্য। আর যদি থাকতোও, তাহলে ইউনিয়ন, প্রেস কাউন্সিল ও শ্রম আদালতের মাধ্যমে আসতো — একা একা ফৌজদারি মামলা হিসেবে নয়। তাই এই মামলাটি নির্ভীক সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক একরামুল হক আসাদের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত প্রপাগাণ্ডা ও হয়রানির হীন উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন সচেতন সাংবাদিক সমাজ।
আপনার মতামত লিখুন :