
আজিজুর রহমান টুটুল,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার,ঢাকা:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর প্রতিশ্রুতি “নিরাপদ আশ্রয়ে নিরাপদ আবাস” এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতার আওতায় সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দপ্তরের কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব যেন এক সুতোয় গাঁথা পুষ্পমাল্য। ।
সততা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরকে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী এবং বিশেষ করে মোঃ ওবায়দুর রহমান সচিব যোগদান করার পর ত্রিরত্ন মিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভিন্ন স্বাদের সততার চমক দিতে চায়।
সহকারী প্রকৌশলী, উপ সহকারী প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি করে যুগান্তকারি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। যেখানে বিগত বছরগুলোতে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলিতে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছে, সেখানে সারাদেশে একযোগে লটারির মাধ্যমে বদলি আদেশ কার্যকর করে অভাবনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তাঁরা।
এই ত্রিরত্নের মধ্যে গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে গড়া
এবং বর্তমান সচিবালয়ে সাবেক ছাত্র দলের সভাপতি / সাধারণ সম্পাদক অথবা দলীও কোন পদ পদবীর সাথে জড়িত একমাত্র ওবায়দুর সাহেব ছাড়া কাউকে পাওয়া যায় না।
গণতন্ত্রের মাতা দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে গড়া মাগুরা জেলার সাবেক ছাত্র দলের প্রথম সভাপতি (বর্তমান সচিব) মোঃ ওবায়দুর রহমানকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেছে নিয়েছেন। এই সচিব বিশ্বস্ততা এবং সততার প্রমাণ দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
রাজউক নিয়ে কঠোর ভাবে পলিসি প্রণয়ন এর সিদ্ধান্তে একাধিক বৈঠক করেছেন।
সর্বপরি বিষয় হলো:
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে প্রথম সারিতে রাখতে মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী ও সচিব নিরলস ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
টু নেশন থিউরি বা দ্বিজাতি তথ্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা হিন্দুস্তান পাকিস্তান আমলে আমরা যখন পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হলাম ঠিক তার ৭ বছর পর প্রতিষ্ঠিত হয় এই জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর।। মানে ১৯৫৪ সাল থেকে আজ ২০২৬ টানা ৭২ বছরেও এখনো পর্যন্ত জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরে কখনো এমন চৌকস নৈপুণ্য দেখা যায়নি। আজ থেকে ২৪/২৫ বা ১৮/২০ বছর পূর্বে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের একটি স্বাক্ষর পাওয়ার আশায়, একখণ্ড জমির আশায় যারা টাকা জমা দিয়ে আবেদন করেছিলেন, তারা মারা গেছেন, তাদের বাবা মারা গেছেন এখন তাদের নাতি পুতিরা সেই অমিমাংসিত আবেদনের পিছনে চটি জোড়া নষ্ট করছে।।
তবে আশার কথা এই যে বর্তমান জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতরের মানীনীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব এর নিরলস পরিশ্রমে ঝুলে থাকা হাজার হাজার তামাদী আবেদন আবারো আলোর মুখ দেখছে। অসংখ্য আবেদন নিস্পত্তি হয়েছে, বাদবাকিও সব সমাধান হওয়ার পথে।।
কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন জন মানুষের নেতা জাকারিয়া তাহের। তাঁর মন্ত্রী হওয়ার খবরে কুমিল্লা শহর ও নির্বাচনি এলাকা বরুড়ায় সে সময় থেকে অদ্যবদি বইছে আনন্দের বন্যা।
জাকারিয়া তাহের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক। এর আগে ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে উপ-নির্বাচনে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
জাকারিয়া তাহের বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা প্রয়াত একেএম আবু তাহের একই আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছিলেন। ২০০৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর স্থানীয় রাজনীতির হাল ধরে উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাকারিয়া তাহের (সুমন)। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট সম্পন্ন করা জাকারিয়া তাহের ১৯৬৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৯১ ভোট। ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭টি। কুমিল্লা-৮ আসনে মোট ভোটারসংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৮৩৩। এর মধ্যে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন; যা প্রদত্ত ভোটের ৫৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, জাকারিয়া তাহেরের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে বর্তমানে সম্পদের পরিমাণ ২৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭১ টাকার। অন্যদিকে তার স্ত্রী নাজনীন আহমেদের স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে সম্পদের পরিমাণ ৬০ কোটি ৭৮ লাখ ৭ হাজার ৫৬০ টাকার।
সাধারণ এদেশে মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁদের সম্পদ বৃদ্ধি পায়। তবে জাকারিয়া তাহের এর ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটি। টানা ৭২ বছরে এই দপ্তরটি যখন টেন্ডার বাজি, লুটপাট, স্বজনপ্রীতি ও কমিশন বাণিজ্যের মধ্যেয় সীমাবদ্ধ ছিলো তখন জাকারিয়া তাহের যোগদানে হারানো গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর।।।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদে আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন দায়িত্বে আসার পাল্টে গেছে জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতরের দৃশ্যপট। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে পিরোজপুর-২ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পিরোজপুরজুড়ে সেই সময় শুরু হয় আনন্দের জোয়ার।
বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর নতুন সরকার ও মন্ত্রিসভা গঠনকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে পিরোজপুর-২ (কাউখালি, ভান্ডারিয়া, নেছারাবাদ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী এই তরুণ সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি উঠেছিল স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে। অনেকেই ভেবেছিলেন পারবে তো ?? তবে তিনি এলেন, দেখলেন এবং স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিলেন কোটি মানুষের হৃদয়।
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলন পরবর্তী নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে মনোনীত প্রার্থী শামিম সাঈদী-কে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেন। তাঁর এই বিজয়কে অবহেলিত পিরোজপুর জনপদের মানুষ তখন থেকেই নতুন সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে দেখে আসছেন গোটা জেলার মানুষ।
সাবেক ছাত্রনেতা ও ব্যবসায়ী সামছুল হক দীপু প্রতিমন্ত্রী সম্পর্কে বলেন, “তাঁর পরিবারে বাবা, মা ও চাচাসহ মোট পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, যা বিরল ঘটনা। তিনি প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় এবং জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় পিরোজপুরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।”
গৃহাযণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বৃহস্পতিবার (৬ই আগস্ট ২০২৬) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে এ পদে পদায়ন করা হয়। এর পূর্বে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মো. ওবায়দুর রহমান ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার আগে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা।
মাঠ প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের সমস্যা ও প্রশাসনিক বাস্তবতা সম্পর্কে সমৃদ্ধ জ্ঞান অর্জন করেছেন।
এ ছাড়া তিনি ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (LATC)-এ প্রশিক্ষক এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তাৃর অবদান উল্লেখযোগ্য।
তিনি দেশের প্রশাসনে মেধাস্বত্ব (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) বিষয়ে অন্যতম বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরে (DPDT) প্রায় সাত বছর সহকারী রেজিস্ট্রার ও উপ-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরকে উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে দেশের আইপি ব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকা রাখেন মো. ওবায়দুর রহমান।
তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (BIM), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (BIAM), বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (BITAC), বিসিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও বক্তৃতা দেন। এছাড়া ঢাকা চেম্বার (DCCI), এফবিসিসিআই (FBCCI) এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (BAPI)-এর বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালায় তিনি বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
মাগুরা জেলার সন্তান মো. ওবায়দুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। মেধাস্বত্ব, সুশাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই পুত্রসন্তানের জনক।
এই মেধাবী মানুষটি খাঁদের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদানের পর থেকে কমেছে জন হয়রানি ও পকেট কাটার বাণিজ্য।
আপনার মতামত লিখুন :